সাধারণভাবে দ্বৈত শাসন বলতে এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে কোনো একটি অঞ্চলের ওপর দুটি পৃথক প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ বা শক্তির কর্তৃত্ব বজায় থাকে। এটি মূলত ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ বাংলায় এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এর ফলে প্রশাসনের দায়িত্ব এবং ক্ষমতা দুটি ভিন্ন পক্ষের হাতে ভাগ হয়ে যায়।এই ব্যবস্থায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লাভ করে ‘দেওয়ানি’ বা রাজস্ব আদায়ের পূর্ণ ক্ষমতা, যা ছিল কার্যত ক্ষমতাসম্পন্ন দায়িত্বহীনতা। অন্যদিকে, বাংলার নবাবের হাতে থাকে ‘নিজামত’ বা শাসনের নামমাত্র দায়িত্ব, যা ছিল মূলত দায়িত্বপূর্ণ ক্ষমতাহীনতা। অর্থাৎ, অর্থ ও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল কোম্পানির হাতে, আর প্রজাসাধারণের সেবার দায়ভার ছিল রিক্ত নবাবের ওপর। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার ফলে বাংলায় চরম বিশৃঙ্খলা ও ১৭৭০ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (ছিয়াত্তর-এর মন্বন্তর) দেখা দিয়েছিল।