টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না?
টনসিল হলে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। নিচে ৮টি খাবার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো, যা টনসিলের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে:
১. অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার: অতিরিক্ত তেল মসলা দেওয়া খাবার খেলে টনসিলের ব্যথা আরও বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
২. ঠান্ডা পানীয় ও খাবার: ঠান্ডা পানীয় বা খাবার খেলে টনসিলের ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই এই সময় ঠান্ডা পানীয় বা খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
৩. টক জাতীয় ফল: টক জাতীয় ফল, যেমন – লেবু, কমলা, জলপাই, তেঁতুল ইত্যাদি ফল খেলে টনসিলের ব্যথা আরও বাড়তে পারে।
৪. মশলাযুক্ত খাবার: মশলাযুক্ত খাবার টনসিলের ফোলাভাব এবং ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
৫. ভাজা ও শুকনো খাবার: ভাজা এবং শুকনো খাবার, যেমন – চিপস, বিস্কুট, শুকনো ফল ইত্যাদি খাবার খেলে টনসিলের ব্যথা আরও বাড়তে পারে।
৬. দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, পনির, দই ইত্যাদি খাবার খেলে অনেকের টনসিলের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
৭. অ্যালকোহল ও ধূমপান: অ্যালকোহল ও ধূমপান টনসিলের ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই অ্যালকোহল ও ধূমপান থেকে দূরে থাকা উচিত।
৮. চিনিযুক্ত খাবার: চিনিযুক্ত খাবার, যেমন – মিষ্টি, চকলেট, ক্যান্ডি ইত্যাদি খাবার খেলে টনসিলের ব্যথা আরও বাড়তে পারে। তাই এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
টনসিল আসলে কী এবং এর কাজ কী?
টনসিল হলো আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ। এটি আমাদের গলার পেছনের দিকে দুই পাশে অবস্থিত দুটি লিম্ফয়েড টিস্যুর পিণ্ড। আপনি যদি হাঁ করে আয়নায় নিজের গলা দেখেন, তবে দুই পাশে মাংসপিণ্ডের মতো যা দেখতে পান, তাই টনসিল। এর মূল কাজ হলো শরীরকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করা। যখন আমরা নাক বা মুখ দিয়ে শ্বাস নিই অথবা খাবার খাই, তখন বাতাসে বা খাবারে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। টনসিল এই জীবাণুগুলোকে আটকে দেয় এবং শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি করে সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে।
সহজভাবে বলতে গেলে, টনসিল আমাদের শরীরের “প্রবেশদ্বারের প্রহরী”। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে টনসিলের গুরুত্ব কিছুটা কমে আসে।
টনসিল ইনফেকশনের প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?
টনসিল ইনফেকশনের লক্ষণগুলো বেশ স্পষ্ট। প্রথম এবং প্রধান লক্ষণ হলো গলা ব্যথা এবং কোনো কিছু গিলতে গেলে কষ্ট হওয়া। আপনার মনে হতে পারে গলার ভেতর কিছু আটকে আছে। এছাড়া উচ্চমাত্রায় জ্বর (১০২-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে), মাথাব্যথা, কান ব্যথা এবং চোয়ালের নিচের লিম্ফ নোড বা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া টনসিলাইটিসের লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লালা পড়া বা খাবার খেতে অনীহা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় গলার ভেতরে টনসিলের ওপর সাদা বা হলুদাভ আস্তরণ বা পুঁজের মতো দাগ দেখা যায়। নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হওয়া এবং কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যাওয়াও একটি বড় লক্ষণ। যদি এই লক্ষণগুলো ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।