সামাজিকীকরণ হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি শিশু ধীরে ধীরে সমাজের নিয়ম-কানুন, রীতিনীতি, মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং আচরণবিধি সম্পর্কে অবগত হয় এবং সেগুলোকে আত্মস্থ করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি সমাজের একজন সক্রিয় ও দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলে। পরিবার, বিদ্যালয়, বন্ধুবান্ধব, কর্মক্ষেত্র এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে ব্যক্তি সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করতে শেখে এবং সমাজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হয়। সামাজিকীকরণের মাধ্যমেই ব্যক্তি তার সামাজিক ভূমিকা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে এবং সমাজে নিজের স্থান তৈরি করে নেয়।
সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া যা জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে। শৈশবে পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করে। এরপর বয়ঃসন্ধিকালে বন্ধু এবং সমবয়সীদের প্রভাব বাড়ে। যৌবনে কর্মক্ষেত্র এবং বিবাহিত জীবন সামাজিকীকরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। সময়ের সাথে সাথে নতুন প্রযুক্তি ও সামাজিক রীতিনীতির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ব্যক্তিকে ক্রমাগত সামাজিকীকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই প্রক্রিয়া ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গঠন, সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন এবং সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।