সন্ধি কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?

বাংলা ভাষায় কথা বলার সময় বা লেখার সময় দুটি শব্দ দ্রুত উচ্চারণ করলে কাছাকাছি থাকা দুটি ধ্বনির মিলন ঘটে। এই মিলনকে ব্যাকরণের ভাষায় সন্ধি বলা হয়।

সন্ধি কাকে বলে?

পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ধ্বনির মিলন বা কাছাকাছি দুটি ধ্বনির উচ্চারণের সুবিধার জন্য একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সন্ধি বলে।

সহজ ভাষায়: পাশাপাশি দুটি বর্ণ বা ধ্বনির মিলনের ফলে উচ্চারণে যে সুবিধা বা মাধুর্য আসে, তাকেই সন্ধি বলে। যেমন: হিম + আলয় = হিমালয় (এখানে ‘অ’ এবং ‘আ’ মিলে ‘আ’ কার হয়েছে)।

সন্ধির উদ্দেশ্য:

১. উচ্চারণের দ্রুততা ও সহজতা আনা।
২. কথার মধ্যে ধ্বনিগত মাধুর্য বা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা।

সন্ধির প্রকারভেদ

বাংলা ব্যাকরণে মূল বা প্রধানত সন্ধি দুই প্রকার। যথা:

১. স্বরসন্ধি
২. ব্যঞ্জনসন্ধি

তবে উৎপত্তি বা ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে সন্ধিকে আবার প্রধানত বাংলা পদের সন্ধি এবং তৎসম (সংস্কৃত) পদের সন্ধি—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। সাধারণভাবে আমরা প্রধান দুটি প্রকার নিয়ে নিচে আলোচনা করছি:

১. স্বরসন্ধি

স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে। অর্থাৎ, প্রথম শব্দের শেষের ধ্বনিটি স্বরবর্ণ এবং দ্বিতীয় শব্দের শুরুর ধ্বনিটি স্বরবর্ণ হলে তাদের মিলনে যে নতুন ধ্বনি তৈরি হয়, তা স্বরসন্ধি।

  • উদাহরণ:
    • বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয় (আ + আ = আ)
    • সূর্য + উদয় = সূর্যোদয় (অ + উ = ও)
    • নদী + ইশ = নদীশ (ঈ + ঈ = ঈ)

২. ব্যঞ্জনসন্ধি

স্বরধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনি, ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

  • উদাহরণ:
    • উৎ + চারণ = উচ্চারণ (ৎ + চ = চ্চ)
    • দিগ + অন্ত = দিগন্ত (গ + অ = গ)
    • সৎ + বাণী = সদ্বাণী (ৎ + ব = দব)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিসর্গ সন্ধি

অনেকেই সন্ধি কয় প্রকার—এই প্রশ্নের উত্তরে স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধির পাশাপাশি বিসর্গ সন্ধির কথাও উল্লেখ করেন। মূলত বিসর্গ সন্ধি হলো ব্যঞ্জনসন্ধিরই একটি বিশেষ অংশ।

বিসর্গ (ঃ) বা অ এবং আ-এর পরে বিসর্গ থাকলে তার সাথে স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির যে মিলন ঘটে, তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

  • উদাহরণ:
    • অহঃ + কার = অহংকার
    • পুঞ্জঃ + রূপ = পুরুপ (বা যেমন: মনঃ + কামনা = মনো কামনা)

Leave a Comment

error: Content is protected !!