বাংলা বাক্যের অর্থ পরিষ্কার করার জন্য এবং পদগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝানোর জন্য কিছু অব্যয় শব্দ বিশেষ নিয়মে বিশেষ বিশেষ পদের পরে বসে। এই অব্যয় শব্দগুলোকে ব্যাকরণের ভাষায় অনুসর্গ বলা হয়।
অন্য কথায়, যে সমস্ত অব্যয় শব্দ বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে কারক বা বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে এবং বিভক্তির মতো কাজ করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
যেমন: বইটি হাতে আছে, কিংবা তার দ্বারা এ কাজ সম্ভব নয়—এখানে ‘দ্বারা’ একটি অনুসর্গ।
অনুসর্গের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
১. অনুসর্গগুলো সাধারণত অব্যয় পদ। ২. এগুলো কখনোই একা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করতে পারে না, বরং বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে তাদের সাথে যুক্ত বা পৃথকভাবে অবস্থান করে। ৩. অনুসর্গগুলো বাক্যে বিভক্তির বিকল্প হিসেবেও কাজ করে।
বহুল ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ ও তাদের উদাহরণ
বাংলা ভাষায় অনেক অনুসর্গ রয়েছে। নিচে বহুল প্রচলিত কয়েকটি অনুসর্গ এবং তাদের ব্যবহার দেখানো হলো:
- দ্বারা, দিয়া, কর্তক: এগুলো সাধারণত করণ কারকে (তৃতীয়া বিভক্তির অর্থে) ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: কলম দية লিখছি। / কাজটি তার কর্তৃক সম্পন্ন হয়েছে।
- হতে, থেকে, চেয়ে: এগুলো অপাদান কারকে (পঞ্চমী বিভক্তির অর্থে) ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: গাছ হতে পাতা ঝরছে। / রহিম থেকে করিম ভালো গায়।
- জন্য, নিমিত্ত, তরে: এগুলো সম্প্রদান বা নিমিত্ত কারকে (চতুর্থী বা ষষ্ঠী বিভক্তির অর্থে) ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: দেশের জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি। / গরিবের তরে কিছু সাহায্য করো।
- সঙ্গে, সাথে, সহিত: এগুলো সহার্থ বা অধিকরণে ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: ভাইয়ের সাথে বাজারে গেলাম।
- মতো, তুল্য, মত: তুলনা বোঝাতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: চাঁদের মতো মুখ।
অনুসর্গ ও বিভক্তির মধ্যে মূল পার্থক্য
ছাত্রছাত্রীদের প্রায়ই অনুসর্গ ও বিভক্তির মধ্যে কনফিউশন তৈরি হয়। মূল পার্থক্যগুলো হলো:
- বিভক্তি: বিভক্তিগুলো স্বাধীন শব্দ নয়, এগুলো শব্দের সাথে মিশে থাকে (যেমন: গাছে = গাছ + এ)।
- অনুসর্গ: অনুসর্গগুলো স্বাধীন শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং শব্দের সাথে মিশে না গিয়ে সাধারণত আলাদাভাবে বসে (যেমন: গাছের জন্য)।