পৃথিবীর উপরিভাগে যে তিন প্রধান প্রকারের শিলা দেখা যায় (আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা), তার মধ্যে পাললিক শিলা অন্যতম। নদী, সাগর বা হ্রদের তলদেশে পলি জমে হাজার হাজার বছর ধরে এই শিলা সৃষ্টি হয় বলেই একে পাললিক শিলা বলা হয়।
পাললিক শিলা কাকে বলে?
আগ্নেয় বা রূপান্তরিত শিলা নানা প্রাকৃতিক শক্তি (যেমন—বায়ুপ্রবাহ, নদীস্রোত, বৃষ্টিপাত, হিমবাহ ইত্যাদি) দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়। এরপর এই ক্ষয়জাত পদার্থগুলো (পলি, বালি, কাদা ইত্যাদি) নদী বা সমুদ্রের তলদেশে কিংবা স্থলভাগের নিচু স্থানে পস্তর স্তরে স্তরে জমা হয়। দীর্ঘকাল ধরে এই স্তরের ওপর ওপরের স্তরের প্রবল চাপে এবং রাসায়নিক উপায়ে জমাট বেঁধে যে শক্ত শিলায় পরিণত হয়, তাকে পাললিক শিলা বলে।
- উদাহরণ: বেলেপাথর (Sandstone), শেকড় বা শেল (Shale), চুনাপাথর (Limestone), কয়লা (Coal), কাদা পাথর ইত্যাদি।
পাললিক শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
পাললিক শিলার কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একে অন্যান্য শিলা থেকে আলাদা করে। যেমন:
১. স্তর বা পলি থাকে: পাললিক শিলার প্রধান এবং সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে স্পষ্ট স্তর বা পরত (Layers) দেখা যায়। পলিগুলো একে একে জমা হওয়ার কারণে এই স্তরগুলোর সৃষ্টি হয়।
২. জীবাশ্মের উপস্থিতি: পাললিক শিলার মধ্যে প্রাচীন উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহাবশেষ বা ছাপ সংরক্ষিত থাকে, যাকে জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil) বলে। সাধারণত অন্য কোনো শিলাতে জীবাশ্ম পাওয়া যায় না। ৩. নরম ও হালকা প্রকৃতির: এই শিলাগুলো আগ্নেয় শিলার তুলনায় সাধারণত নরম ও কম শক্ত হয়। তবে কিছু চুনাপাথর বা বেলেপাথর বেশ শক্ত হতে পারে।
৪. ছিদ্রযুক্ত ও সচ্ছিদ্রতা: পলি কণাগুলোর মধ্যে ফাঁকফোকর বা ছিদ্র থাকার কারণে পাললিক শিলাগুলো সচ্ছিদ্র (Porous) প্রকৃতির হয় এবং এর ভেতর দিয়ে সহজে জল বা তরল প্রবেশ করতে পারে।
৫. ভাঁজ ও চ্যুতি: দীর্ঘকাল ধরে ভূ-আন্দোলনের কারণে পাললিক শিলার স্তরগুলোতে অনেক সময় ভাঁজ বা বাঁক পড়তে দেখা যায়।