নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি

নামাজে পূর্ণ মনোযোগ ও একাগ্রতা বজায় রাখা জরুরি। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী এমন কিছু কাজ রয়েছে যা করলে নামাজ ভেঙে যায় এবং পুনরায় পড়তে হয়। সাধারণভাবে নামাজ ভঙ্গের কারণ ১৯টি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

নিচে সেই ১৯টি কারণ বিস্তারিত দেওয়া হলো:

নামাজ ভঙ্গের ১৯টি কারণ

১. নামাজে কথা বলা: ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, কোনো কথা বললে নামাজ ভেঙে যায়।
২. কাউকে সালাম দেওয়া: নামাজরত অবস্থায় কাউকে মুখে সালাম দেওয়া।
৩. সালামের উত্তর দেওয়া: কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া।
৪. আহ্-উহ্ শব্দ করা: ব্যথা বা কষ্টের কারণে শব্দ করা (তবে জান্নাত-জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদলে নামাজ ভাঙে না)।
৫. বিনা প্রয়োজনে কাশি দেওয়া: গলা পরিষ্কার করার জন্য অহেতুক কাশি দেওয়া।
৬. অমল কাসীর (বেশি কাজ করা): এমন কোনো কাজ করা যা দেখে দূর থেকে মনে হয় যে ব্যক্তিটি নামাজ পড়ছে না।
৭. বিপদ বা দুঃসংবাদে উত্তর দেওয়া: কোনো খবরে ‘ইন্নালিল্লাহ’ বা এই জাতীয় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো।
৮. সুসংবাদে উত্তর দেওয়া: ভালো খবরে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা।
৯. আশ্চর্যজনক কিছু শুনে উত্তর দেওয়া: যেমন ‘সুবহানাল্লাহ’ বা ‘আল্লাহু আকবার’ বলা।
১০. নিজের ইমাম ছাড়া অন্য কাউকে লোকমা দেওয়া: অর্থাৎ অন্য কোনো নামাজির ভুল সংশোধন করে দেওয়া।
১১. কুরআন শরীফ দেখে পড়া: নামাজে সামনে কুরআন রেখে তা দেখে দেখে তিলাওয়াত করা।
১২. কুরআন পাঠে বড় ধরণের ভুল করা: তিলাওয়াতে এমন ভুল করা যাতে অর্থের পরিবর্তন হয়ে যায়।
১৩. খাওয়াদাওয়া করা: নামাজের মধ্যে কোনো কিছু খাওয়া।
১৪. মুখের ভেতর সামান্য কিছু গিলে ফেলা: দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোলার সমান বা তার বড় কোনো কিছু গিলে ফেলা।
১৫. সতর খুলে যাওয়া: শরীরের ঢেকে রাখা ফরয অংশ এক রুকন পরিমাণ সময় (তিনবার সুবহানাল্লাহ বলার সময়) খোলা থাকা।
১৬. ছিটকার উত্তর দেওয়া: কেউ হাঁচি দিলে তার উত্তরে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা।
১৭. নাপাক জায়গায় সেজদা করা: সেজদার জায়গা অপবিত্র হওয়া।
১৮. কেবলা থেকে সিনা (বুক) ফিরে যাওয়া: নামাযের দিক থেকে শরীর ঘুরে যাওয়া।
১৯. নামাজে উচ্চস্বরে হাসা: অট্টহাসি দিলে নামাজ ভেঙে যায় (এমনকি এতে ওযুও ভেঙে যায়)।

মনে রাখা জরুরি: নামাজ চলাকালীন ওযু ভেঙে গেলেও নামাজ ভেঙে যায়। সেক্ষেত্রে পুনরায় ওযু করে নতুন করে নামাজ পড়তে হবে।

error: Content is protected !!