উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension) কাকে বলে?

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হলো এমন একটি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যেখানে রক্তনালীগুলির (ধমনী) দেয়ালে রক্তের চাপ সব সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।

রক্তচাপ দুটি সংখ্যা দ্বারা পরিমাপ করা হয়:

  1. সিস্টোলিক চাপ (উপরের সংখ্যা): যখন হৃৎপিণ্ড সংকোচিত হয়ে রক্ত পাম্প করে, তখন ধমনীতে যে চাপ সৃষ্টি হয়।
  2. ডায়াস্টোলিক চাপ (নীচের সংখ্যা): যখন হৃৎপিণ্ড দুটি স্পন্দনের মাঝে বিশ্রাম নেয়, তখন ধমনীতে যে চাপ থাকে।

সাধারণত, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে রক্তচাপের মাত্রা 140/90 mmHg (মিলিমিটার অফ মারকারি) বা তার বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। স্বাভাবিক রক্তচাপের মাত্রা 120/80 mmHg বা তার নিচে থাকে।

দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি এবং অন্যান্য অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, যার ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনি ফেইলিওর-এর ঝুঁকি বাড়ে।

উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে FAQ

উচ্চ রক্তচাপের প্রধান লক্ষণ কী?

উত্তর: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের কোনো লক্ষণ থাকে না। একে “নীরব ঘাতক” বলা হয়। তবে গুরুতর পর্যায়ে মাথাব্যথা (বিশেষ করে মাথার পিছনে), মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা বা বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের কারণ কী?

উত্তর: প্রায় ৯০-৯৫% ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, একে প্রাথমিক বা এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন বলে। বাকি ৫-১০% ক্ষেত্রে কিডনি রোগ বা হরমোনজনিত সমস্যার মতো সুনির্দিষ্ট অন্তর্নিহিত কারণে এটি হয়, যাকে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন বলে।

আমার রক্তচাপ কখন বিপজ্জনক বলে গণ্য হবে?

উত্তর: সাধারণভাবে রক্তচাপ 180/120 mmHg বা তার বেশি হলে তাকে হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস বলা হয় এবং এটি একটি জরুরি অবস্থা।

উচ্চ রক্তচাপ কি নিরাময় করা যায়?

উত্তর: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ নিরাময় করা যায় না, তবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন (খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম) দ্বারা রক্তচাপকে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা সম্ভব।

উচ্চ রক্তচাপ কি শিশুদেরও হতে পারে?

উত্তর: হ্যাঁ, শিশুদেরও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যদিও এটি প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কম সাধারণ। সাধারণত কিডনি বা হৃদরোগের মতো অন্তর্নিহিত সমস্যার কারণে এটি হয়।

উচ্চ রক্তচাপ উপেক্ষা করলে কী হতে পারে?

উত্তর: উচ্চ রক্তচাপ উপেক্ষা করলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, কিডনি রোগ, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং যৌন সমস্যা হতে পারে।

error: Content is protected !!