থাইরয়েড হলে কি কি খাওয়া যাবে না 2026 Fast Solution

থাইরয়েড কি? থাইরয়েড হলে কি কি খাওয়া যাবে না
থাইরয়েড হল একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি, যা আমাদের গলার সামনের দিকে শ্বাসনালীর চারপাশে অবস্থিত এবং এর আকৃতি প্রজাপতির মতো। এই গ্রন্থিটি থাইরয়েড হরমোন (প্রধানত ট্রাইওডোথাইরোনিন বা T3 এবং থাইরক্সিন বা T4) নিঃসরণ করে, যা শরীরের প্রায় সমস্ত বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে; যেমন- মেটাবলিক রেট, প্রোটিন সিন্থেসিস, মস্তিষ্কের বিকাশ, হৃৎপিণ্ড ও পেশীর কার্যকারিতা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি হলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়, যেমন- হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজম।

থাইরয়েড

থাইরয়েড হলে কি কি খাওয়া যাবে না
থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে কিছু নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলতে বা সীমিত পরিমাণে খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে, আপনার ঠিক কোন ধরনের থাইরয়েড সমস্যা (হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজম) আছে তার উপর নির্ভর করে খাবারের তালিকা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

১. সয়াবিন এবং সয়া পণ্য: সয়া দুধ, টোফু, সয়াসস, সয়া চাঙ্কস ইত্যাদি (এগুলি থাইরয়েড হরমোন শোষণে বাধা দিতে পারে)।
২. বাঁধাকপি: (গয়ট্রোজেনিক সবজি, যা কাঁচা খেলে বা বেশি পরিমাণে খেলে থাইরয়েড হরমোনে হস্তক্ষেপ করতে পারে)।
৩. ফুলকপি: (গয়ট্রোজেনিক সবজি)।
৪. ব্রোকলি: (গয়ট্রোজেনিক সবজি)।
৫. কালে বা পাতা কপি: (গয়ট্রোজেনিক সবজি)।
৬. ব্রাসেলস স্প্রাউট: (গয়ট্রোজেনিক সবজি)।
৭. মূলা: (গয়ট্রোজেনিক সবজি)।
৮. চিনি এবং চিনিযুক্ত খাবার: মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি, চিনি মেশানো জুস ইত্যাদি (ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং ওজন বাড়াতে পারে)।
৯. সফট ড্রিংকস বা সোডা: (চিনি ও ক্যাফেইন থাকতে পারে)।
১০. অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং চর্বিযুক্ত খাবার: মাখন, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্যাটযুক্ত মাংস (হরমোন উৎপাদন ও শোষণকে ব্যাহত করতে পারে)।
১১. গ্লুটেনযুক্ত খাবার: সাদা আটা-ময়দা ও তা দিয়ে তৈরি রুটি, পাস্তা, বিস্কুট (বিশেষত যাদের সিলিয়াক রোগ বা গ্লুটেন সংবেদনশীলতা আছে)।
১২. ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয়: অতিরিক্ত চা, কফি (থাইরয়েডের ওষুধের শোষণ কমাতে পারে এবং হাইপারথাইরয়েডিজমের উপসর্গ বাড়াতে পারে)।
১৩. অ্যালকোহল: (থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে)।
১৪. প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ফাস্ট ফুড: ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত চিপস, ফ্রোজেন ডিনার (এগুলিতে উচ্চমাত্রার সোডিয়াম, অস্বাস্থ্যকর চর্বি এবং চিনি থাকতে পারে)।
১৫. অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার: অতিরিক্ত পরিমাণে সবজি বা হোল গ্রেন (এটি থাইরয়েডের ওষুধ শোষণে বাধা দিতে পারে, তাই সময় ব্যবধান রেখে খেতে হবে)।
১৬. পিচ ফল: (কিছু ক্ষেত্রে গোইট্রোজেনিক হতে পারে)।
১৭. স্ট্রবেরি: (কিছু ক্ষেত্রে গোইট্রোজেনিক হতে পারে)।
১৮. নাশপাতি: (কিছু ক্ষেত্রে গোইট্রোজেনিক হতে পারে)।
১৯. অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত খাবার (বিশেষত হাইপারথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে): যেমন – অতিরিক্ত সামুদ্রিক মাছ, কেল্প বা সীউইড (সামুদ্রিক শৈবাল), এবং অতিরিক্ত আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট।
২০. বাদাম (Peanuts/চিনাবাদাম): এটি গোইট্রোজেনিক হতে পারে, তাই অতিরিক্ত পরিমাণে এড়িয়ে চলা ভালো।

Frequently Asked Questions

থাইরয়েড কী?

থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে থাকা একটি ছোট গ্রন্থি, যার আকৃতি প্রজাপতির মতো। এটি থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে, যা শরীরের বিপাক, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, ওজন এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইরয়েড সমস্যা কি নিরাময়যোগ্য?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, থাইরয়েড সমস্যা পুরোপুরি নিরাময় করা যায় না, তবে সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এটিকে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। থাইরয়েড ক্যান্সারের মতো কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব।

থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত হলে কি স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়?

হ্যাঁ, থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষই নিয়মিত চিকিৎসা, ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখার মাধ্যমে স্বাভাবিক, সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড সমস্যার প্রভাব কী?

গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত থাইরয়েড মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যেমন গর্ভপাত, প্রিক্ল্যাম্পসিয়া বা শিশুর মানসিক বিকাশে সমস্যা। তাই গর্ভবতী মহিলাদের নিয়মিত থাইরয়েড পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

থাইরয়েডের সমস্যা নির্ণয়ের জন্য সাধারণত কোন পরীক্ষা করা হয়?

রক্তে থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH), ফ্রি T3 এবং ফ্রি T4 হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনে থাইরয়েড অ্যান্টিবডি এবং গলার আলট্রাসনোগ্রাফিও করা যেতে পারে।

error: Content is protected !!