সংবিধানের ২১নং ধারায় উল্লিখিত জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের বিশেষ তাৎপর্য কি?

১৯৭৮ সালে প্রণীত সংবিধানের ৪৪তম সংশোধনী আইনে বলা হয়, জরুরি অবস্থায় রাষ্ট্রপতি একটি বিশেষ ঘোষণাবলে অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারলেও ২১নং ধারায় বর্ণিত জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারকে কখনই স্থগিত রাখা যাবে না।

বর্তমানে সম্পত্তির অধিকার সাংবিধানিক মর্যাদা আলোচনা কর।

১৯৭৮ সালে সংবিধানের ৪৪তম সংশোধনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং ৩০০(ক) নামে একটি অনুচ্ছেদ সংবিধানে যোগ করে তাতে বলা হয়েছে যে, আইনসঙ্গত পদ্ধতি ব্যতীত কাউকে তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এই সংশোধনের ফলে সম্পত্তির অধিকারটি বর্তমানে মৌলিক অধিকারের কৌলীন্য হারিয়ে সাধারণ বিধিবদ্ধ আইনের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

অর্থনৈতিক আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত যেকোনো দুটি নির্দেশমূলক নীতির উল্লেখ করো।

রাষ্ট্র এমন ভাবে তার নীতি গুলিকে পরিচালনা করবে যাতে – ১। স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে সকল নাগরিক পর্যাপ্ত জীবিকা অর্জনের সুযোগ পায়। ২। দেশের সম্পদ এমনভাবে বন্টিত হবে যেন সর্বসাধারণের মঙ্গল হয়। ৩। উৎপাদনের উপায় গুলি যেন মুষ্টিমেয়ের হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়।

ভারতীয় নাগরিকদের কয়টি মৌলিক কর্তব্যের উল্লেখ করো।

ভারতীয় নাগরিকদের কয়টি মৌলিক কর্তব্যের উল্লেখ করা হলো – ১। সংবিধান মান্য করা এবং সংবিধানের আদর্শ ও প্রতিষ্ঠানসমূহ, জাতীয় পতাকা ও স্তোত্রের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। ২। স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান আদর্শ গুলি সযত্নে লালন ও অনুসরণ। ৩। ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও সংহতিকে সমর্থন ও সংরক্ষণ। ৪। দেশ রক্ষা ও আহ্বান জানানো হলে জাতীয় সেবামূলক কার্যে আত্মনিয়োগ।

ভারতীয় সংবিধানে শোষণের বিরুদ্ধে কি কি অধিকারের কথা বলা হয়েছে?

ভারতীয় সংবিধানের ২৩ (১)নং ধারায় মানুষ ক্রয়-বিক্রয়, বেগার খাটানো, বল প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষকে শ্রম দানে বাধ্য করানো দণ্ডনীয় অপরাধ বলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জনস্বার্থে রাষ্ট্র সকলকে শ্রম দানে বাধ্য করতে পারে। সংবিধানের ২৪ নং ধারায় বলা হয়েছে, কম বয়স্ক শিশুদের কোনো খনি বা অন্য বিপদজনক কার্যে নিযুক্ত করা যাবে না।

উপাধি প্রদান এর ব্যাপারে ভারতীয় সংবিধানে কি ব্যবস্থা আছে?

ভারতীয় সংবিধানে ১৮ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, সামরিক কিংবা শিক্ষা বিষয়ক উপাধি ছাড়া অন্য কোন উপাধি রাষ্ট্র প্রদান করতে পারেনা। অবশ্য ১৯৫৪ সালে থেকে ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান দানের জন্য ভারত সরকার ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ ও পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করার ব্যবস্থা চালু করে।

জরুরি অবস্থা চলাকালে মৌলিক অধিকার গুলির অবস্থা কেমন থাকে?

সংবিধানের ৩৫২নং ধারা অনুসারে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতি বিশেষ ঘোষণা বলে সাময়িকভাবে মৌলিক অধিকার গুলি স্থগিত রাখতে পারেন। তবে ২১ নং ধারায় বর্ণিত জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার কে কখনোই স্থগিত রাখা যায় না।

নিবর্তনমূলক আটক আইনে আটক ব্যক্তিদের কতদিন আটক রাখা যায়?

৪৪ তম সংবিধান সংশোধনী আইন অনুসারে কোন ব্যক্তিকে দু মাসের বেশি বিনা বিচারে আটক রাখা যাবে না। এর বেশি সময় আটক রাখতে হলে তিনজন বিচারক নিয়ে গঠিত উপদেষ্টা পর্ষদ এর অনুমতি আবশ্যক। উপদেষ্টা পর্ষদ এর অনুমতি নিয়ে কোনো ব্যক্তিকে বছর বা তার বেশি সময় আটক রাখা যায়।

error: Content is protected !!