পরিকল্পনা কীভাবে ব্যবসায়ের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে?

ব্যবসায়ের সম্ভাবনা ও লাভজনকতা মূল্যায়নের মাধ্যমে পরিকল্পনা ব্যবসায়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।এর আওতায় ব্যবসায়ী প্রতিযোগী সম্পর্কে ধারণা দেয়। এছাড়া আগামী দিনে ব্যবসায়কে কোন দিকে এগিয়ে নেওয়া উচিত তা জানতে পারেন।আবার, ব্যবসায়ে কীভাবে লাভজনকতা অর্জন করা যায় এবং ভবিষ্যতে পণ্যটি কীভাবে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো উচিত তা জানতে পারা যায়। ফলে পরিকল্পনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

সংগঠিতকরণ কাকে বলে?

পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব ও ক্ষমতা বণ্টন করা হলো সংগঠিতকরণ। কর্মীদের মধ্যে বিভাগ ও উপবিভাগ অনুযায়ী কাজ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। এ ব্যবস্থা কর্মীদের দক্ষভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। এতে ব্যবসায়ের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক ও বস্তুগত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। আর দক্ষ সংগঠন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানকে ফলপ্রসূ করে।

প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনা করা কেন প্রয়োজন?

পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যৎ কাজের দিকনির্দেশনা। একটি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে কীভাবে সাফল্য অর্জন করবে, কীভাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকে পরিকল্পনায়। এটি অনুযায়ী কাজ করে সহজে সফলতা পাওয়া যায়। এজন্য প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনা করা হয়।

ব্যবস্থাপনার প্রথম কাজ কী?

ব্যবস্থাপনার প্রথম কাজ হলো পরিকল্পনা করা। পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যৎ কাজের দিকনির্দেশনা। এতে কোনো ব্যবসায় সংগঠনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভবিষ্যতে কী কাজ, কে, কীভাবে, কখন করতে তা নির্ধারণ করা হয়। তাই পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যবস্থাপকীয় কাজ শুরু হয়।

সমন্বয়সাধন কাকে বলে?

প্রতিষ্ঠানের কর্মী, বিভাগ ও উপবিভাগের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হলো সমন্বয়সাধন। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সকলে মিলে একটি দলে পরিণত হয়। ফলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা যায়। সমন্বয়সাধন প্রতিটি বিভাগের ও কর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করে। ফলে কাজের গতিশীলতা বাড়ে ও সহজে উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।

কর্মীদের প্রেষণা দেওয়া প্রয়োজন কেন?

কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহী করতে প্রেষণা দেওয়া প্রয়োজন। কর্মীরাই উৎপাদনের চাকা সচল রাখে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মীদের কাছ থেকে কাজ থেকে কাজ আদায়ে প্রেষণা দেওয়া প্রয়োজন। প্রেষণা প্রতিষ্ঠানের কাজে তাদের উৎসাহিত করে। এতে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ে।

ভোক্তা সন্তুষ্টি কাকে বলে?

কোনো পণ্য বা সেবা থেকে প্রত্যাশিত উপযোগ প্রাপ্তিকে ভোক্তা সন্তুষ্টি বলে। প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি কম হলে ভোক্তা বা ক্রেতা অসন্তুষ্ট হয়। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী উপযোগ লাভ করলে ভোক্তা ঐ পণ্য কিনতে উৎসাহিত হয়। সুতরাং ভোক্তাদের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে প্রত্যশা পূরণের পাশাপাশি পরবর্তীতে তাদের পণ্য কিনতে উৎসাহিত করা হলো ভোক্তা সন্তুষ্টি।

বণ্টন প্রণালির ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।

উৎপাদকের কাছ থেকে পণ্য বা সেবা ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় যেসব পক্ষ জড়িত তাদের কার্যক্রমকে সম্মিলিতভাবে বলা হয় বণ্টন প্রণালি। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করতে বণ্টন প্রণালির প্রয়োজন হয়। বণ্টন প্রণালির শুরুতে উৎপাদকের অবস্থান, আর সর্বশেষ ভোক্তার অবস্থান। বণ্টন প্রণালির মধ্যে মধ্যস্থব্যবসায়ীর উপস্থিতির ফলে পণ্যদ্রব্য সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

error: Content is protected !!