অবিভাজ্য ধ্বনি (Suprasegmental phoneme) বলতে সেইসব ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়, যেগুলোকে কৃত্রিমভাবে খণ্ড করা বা বিশ্লেষণ করা যায় না। সাধারণ বিভাজ্য ধ্বনি বা বর্ণকে (যেমন: অ, ক, চ) আমরা আলাদা আলাদা স্বর বা ব্যঞ্জন হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি, কিন্তু অবিভাজ্য ধ্বনিগুলো শব্দের মূল ধ্বনিগুচ্ছের ওপর আশ্রিত হয়ে অবস্থান করে। এগুলো সাধারণত কোনো একক বর্ণ নয়, বরং শব্দের উচ্চারণের ভঙ্গি বা স্তরের সাথে যুক্ত থাকে।
অবিভাজ্য ধ্বনি মূলত শব্দের অর্থ পরিবর্তন বা ভাব প্রকাশের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলা ভাষায় এর প্রধান উদাহরণগুলো হলো শ্বাসঘাত (Accent), সুরতরঙ্গ (Intonation), যতি (Pause) এবং নাসিক্যভবন। উদাহরণস্বরূপ, একটি সাধারণ বাক্যকে আপনি জিজ্ঞাসাসূচক নাকি বিবৃতিমূলক হিসেবে উচ্চারণ করছেন, তা নির্ভর করে আপনার গলার স্বরের ওঠানামা বা সুরতরঙ্গের ওপর। এই সুর বা টানের কোনো আলাদা লিখিত রূপ নেই, তাই একে মূল ধ্বনি থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয় বলেই একে অবিভাজ্য ধ্বনি বলা হয়।