রেশমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব

রেশমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
রেশমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিম্নে উল্লেখ করা হলো
১। রেশম পোকা থেকে রেশমি সুতা পাওয়া যায়। এই রেশমি সুতা দ্বারা উন্নতমানের অতি মূল্যবান ও আরামদায়ক রেশমি কাপড় তৈরি হয়।
২। রেশম কাপড়ের দেশে ও বিদেশে যেমন চাহিদা রয়েছে তেমনি এর দামও বেশি।
৩। রেশম কাপড় বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা সম্ভব।
৪। জাতীয় আয় বৃদ্ধিসহ গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৫। রেশম বস্ত্র কোমল ও নমনীয়। এই বস্ত্রে শতকরা ১১ ভাগ আর্দ্রতা বিদ্যমান থাকে। ফলে শীত, গ্রীষ্ম, হেমন্ত সব ঋতুতেই এ কাপড় পরিধান করা আরামদায়ক হয়।
৬। অল্প মূলধন ও কম জায়গা কাজে লাগিয়ে রেশম চাষ করে অধিক অর্থ উপার্জন করা যায়। এত কম মূলধন ও জায়গা দিয়ে অন্য কোন ফসল চাষ বা অর্থনৈতিক কর্মকান্ড করা সম্ভব হয় না।
৭। আত্মকর্মসংস্থান তথা বেকারত্ব দূরীকরণের একটি সহজ উপায়। রেশম চাষ করলে পরিবারের বেকার সব লোকের কর্মসংস্থান হয়। এতে পরিবার তথা সমাজের ওপর একটা পজিটিভ প্রভাব পড়ে।
৮। রেশম চাষে ঝুঁকি কম। অর্থাৎ প্রাকৃতিক দূর্যোগ, দাম কম হওয়া বা অন্য কোনো কারণে আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
৯। অধিক কারিগরি জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না বিধায় যে কেউ রেশম চাষ করে রেশম সুতা উৎপাদন করতে পারে।
১০। রেশম চাষে রেশম সুতার উৎপাদন খরচ কম, কিন্তু লাভ বেশি হয়।
১১। রেশম গুটি সিদ্ধ করে সুতা বা তন্ত্র ছাড়িয়ে নেয়ার পর মৃত পিউপা বা মুককীট হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
১২। রেশম গুটি থেকে সুতা আহরণের পর উচ্ছিষ্ট ছোবড়া থেকে সার্টিন তৈরি করা যায়। এছাড়াও কোর্সি কাটা দ্বারা বিশেষ বুনন প্রক্রিয়ায় গুটি থেকে কাপড় তৈরি করা হয়। বয়নকালের বর্জ্য পুনরায় ব্যবহার করে কার্পেট তৈরি করা যায়।
১৩। রেশম চাষে একই জমির তুঁত গাছ থেকে বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময় ৪-৫ বার তুঁত পাতা (তুঁত ফসল) পাওয়া যায় এবং তুঁত গাছ ২০-২৪ বছর বাঁচে বলে এক নাগাড়ে রেশম চাষ করে অনেক অর্থ উপার্জন করা যায়।
১৪। বাড়ির চারিদিকে, পুকুর পাড়ে, রাস্তা ও রেললাইনের পাশে এবং অনাবাদী ও পতিত জমিতে তুঁত গাছ আবাদ করে রেশম চাষ করা যায়। এতে ফসলী জমি নষ্ট হয় না।
১৫। তুঁত গাছ একবার লাগালে ২০-২৪ বছর বাঁচে বলে রেশম চাষে এর উৎপাদন খরচ কম হয়।
১৬। রেশম চাষের জন্য তুঁত গাছ আবাদে অধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়। এক হিসেবে দেখা গেছে যে, রেশম চাষের জন্য প্রতি হেক্টর জমিতে তুঁত বৃক্ষ আবাদ করলে বছরে ১২-১৩ জন লোকের কর্মসংস্থান হয় অথচ অন্য ফসলে বছরে ৪-৫ জন লোক হলেই চলে।
১৭। মরা তুঁত গাছ জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া তুঁত গাছের অতিরিক্ত পাতা গবাদি-পশুকেও খাওয়ানো যায়।
১৮। রেশম কীট থেকে আহরিত তেল সাবান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রেশম সুতা অপারেশনের পর সেলাই কাজে ব্যবহার করা হয়।

error: Content is protected !!