ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে পার্থক্য

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দুটি পরিচিত ব্যবসায় হলো ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প। বেশিরভাগ মানুষ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে একই অর্থে বিচার করেন। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পপ্রায় একই ধরনের পণ্য উৎপাদন করে বলে এদের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য ধরা পড়ে না।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে পার্থক্যঃ দুটি আলাদা ব্যবসায় হওয়ায় তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিচে তা আলোচনা করা হলোঃ

পার্থক্যের ধরনক্ষুদ্র শিল্পকুটির লিল্প
১. সংজ্ঞাযে শিল্পে কর্মী সংখ্যা ২০ জনের বেশি এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় এবং পারিবারিক সদস্য কম থাকে তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে।যে শিল্প সাধারণত স্বল্প মূলধনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পারিবারিক পরিবেশে নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে কুটির শিল্প বলে।
২. কর্ম সংখ্যাবাংলাদেশে কারখানা আইন অনুযায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে কর্মী সংখ্যা ২০ জনেরও বেশি।বাংলাদেশ কারখানা আইন অনুযায়ী কুটির শিল্পের কর্মী সংখ্যা ২০ জনের কম।
৩. অবস্থানক্ষুদ্র শিল্প সাধারণত ছোট ছোট কারখানায় অবস্থিত।কুটির শিল্প পারিবারিক গৃহে অবস্থিত।
৪. বিনিয়োগক্ষুদ্র শিল্পে স্থায়ী বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকার বেশি নয়।কুটির শিল্পে স্থায়ী বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকার অধিক নয়।
৫. ঝুঁকিক্ষুদ্র শিল্পে ঝুঁকির পরিমাণ বেশি।কুটির শিল্পে ঝুঁকি নেই বললেই চলে।
৬. বাজারক্ষুদ্র শিল্পের বাজার দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাহিরে অবস্থিত।কুটির শিল্পের বাজার স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে।
৭. সংগঠনক্ষুদ্র শিল্পে সাংগঠনিক কাঠামো বিদ্যমান থাকে।কুটির শিল্পে কোনো সাংগঠনিক কাঠামো বিদ্যমান থাকে না।
৮. ব্যাপকতাক্ষুদ্র শিল্প বিস্তৃতি অত্যন্ত ব্যাপক। তাই ক্ষুদ্র শিল্প কুটির শিল্পের পর্যায়ে পড়ে না।কুটির শিল্প ক্ষুদ্র পরিসরের বলে এর ব্যাপকতা নেই এবং এই শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্পের পর্যায়ভুক্ত করা যায়।
৯. পুঁজির উৎসবিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্র শিল্পের পুঁজির উৎসপারিবারিক সদস্যরাই এই শিল্পের পুঁজির একমাত্র উৎস।

উপরিউক্ত পার্থক্যগুলো দ্বারা বলা যায়। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প তেমন পৃথক সত্তা নয়। দুটিই একই ধরনের পণ্য উৎপাদন করে। প্রায়ই একইভাবে এই শিল্পগুলো কার্য পরিচালনা করে থাকে।

error: Content is protected !!