সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ কাকে বলে?

রসায়নে গবেষণাগারে প্রমাণ দ্রবণ (Standard Solution) তৈরির ওপর ভিত্তি করে পদার্থকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে একটি হলো সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ

সংজ্ঞা

যেসব পদার্থ প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় না, যাদের ওজন বায়ুর সংস্পর্শে পরিবর্তিত হয় এবং যাদের দিয়ে সরাসরি প্রমাণ দ্রবণ তৈরি করা যায় না, তাদের সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলা হয়।

এই পদার্থগুলো বাতাস থেকে অক্সিজেন, জলীয় বাষ্প বা কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে নেয়, যার ফলে এদের ঘনমাত্রা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:

  • অপরিচ্ছন্নতা: এগুলো প্রকৃতিতে সাধারণত ১০০% বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় না।
  • বায়ুর সাথে বিক্রিয়া: এগুলো বায়ুমণ্ডলের উপাদান (যেমন: $CO_2$, জলীয় বাষ্প) দ্বারা আক্রান্ত হয়।
  • ঘনমাত্রা পরিবর্তনশীল: এসব পদার্থ দিয়ে তৈরি দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘক্ষণ অপরিবর্তিত থাকে না।
  • পরোক্ষ পরিমাপ: এদের ঘনমাত্রা সঠিকভাবে জানার জন্য প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের সাহায্য নিতে হয় (টাইট্রেশন প্রক্রিয়ায়)।

উদাহরণ

গবেষণাগারে বহুল ব্যবহৃত কিছু সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ হলো:

  1. কস্টিক সোডা (NaOH): এটি বাতাস থেকে পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে নেয়।
  2. পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4): এটি আলোর উপস্থিতিতে বিয়োজিত হয়ে যায়।
  3. সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4): এটি বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প শোষণ করে নিজের আয়তন ও ঘনমাত্রা পরিবর্তন করে ফেলে।
  4. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)

কেন এদের সরাসরি ব্যবহার করা যায় না?

যেহেতু সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থগুলো বায়ুর সংস্পর্শে এলে ওজনে বেড়ে যায় বা রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়, তাই এদের মেপে তৈরি করা দ্রবণের শক্তিমাত্রা বা মোলারিটি সঠিক হয় না। তাই প্রথমে অন্য একটি প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের (যেমন: সোডিয়াম কার্বনেট) সাথে টাইট্রেশন করে এদের প্রকৃত ঘনমাত্রা নির্ণয় করে নিতে হয়।

error: Content is protected !!