সাহিত্যে যখন উপমেয় (যার তুলনা করা হচ্ছে) এবং উপমান (যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে)-এর মধ্যে কোনো অভেদ কল্পনা করা হয়, অর্থাৎ দুইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য রাখা হয় না, তখন তাকে রূপক অলংকার বলা হয়। এক্ষেত্রে ‘মতো’ বা ‘ন্যায়’ এর মতো তুলনাবাচক শব্দ ব্যবহার না করে সরাসরি উপমেয়কে উপমান হিসেবেই বর্ণনা করা হয়।
সহজ কথায়, যখন কবি বা লেখক মনের গভীর কোনো ভাব বা বস্তুকে অন্য কোনো বস্তুর সাথে এতটাই একীভূত করে ফেলেন যে উভয়ের অস্তিত্ব অভিন্ন মনে হয়, তখনই রূপক অলংকারের সৃষ্টি হয়। যেমন— “মন-মাঝি তোর বৈঠা নেরো, আমি আর বাইতে পারলাম না।” এখানে ‘মন’ হলো উপমেয় এবং ‘মাঝি’ হলো উপমান; কিন্তু মনকে মাঝির মতো না বলে সরাসরি ‘মন-মাঝি’ বলার মাধ্যমে মন ও মাঝির অভিন্নতা প্রকাশ পেয়েছে।