ভাষার মাধুর্য ও উচ্চারণের ক্ষিপ্রতা বজায় রাখতে যখন দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনবর্ণ মাঝখানে কোনো স্বরধ্বনি ছাড়াই একে অপরের সাথে মিলে যায়, তখন সেই মিলিত রূপকে যুক্তধ্বনি বা যুক্তবর্ণ বলা হয়। বাংলা ব্যাকরণে শব্দের গঠনশৈলী ও সঠিক উচ্চারণে এদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দ্রুত উচ্চারণের ফলে এই ধ্বনিগুলোর মিলন ঘটে, যেমন— ‘পদ্ম’ শব্দটিতে ‘দ্’ এবং ‘ম্’ মিলে ‘দ্ম’ যুক্তধ্বনিটি গঠিত হয়েছে। এই যুক্তরূপগুলো কখনো তাদের মূল বর্ণের আকৃতি বজায় রাখে (যেমন: ‘প’ + ‘ত’ = ‘প্ত’), আবার কখনো সম্পূর্ণ নতুন রূপ ধারণ করে (যেমন: ‘ক’ + ‘ষ’ = ‘ক্ষ’)। মূলত ভাষার সংহতি রক্ষা এবং শ্রুতিমধুর শব্দ তৈরির জন্যই যুক্তধ্বনি ব্যবহৃত হয়।