বস্তুগত সংস্কৃতি বলতে কোনো সমাজের মানুষের তৈরি সেই সমস্ত দৃশ্যমান এবং স্পর্শযোগ্য উপাদানগুলোকে বোঝায়, যা তাদের জীবনযাত্রার প্রতিফলন ঘটায়। এটি মূলত সংস্কৃতির বাহ্যিক রূপ। আদিম যুগের পাথরের হাতিয়ার থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের আধুনিক প্রযুক্তি, আসবাবপত্র, ঘরবাড়ি, পোশাক-আশাক, যানবাহন এবং শিল্পকর্ম—সবই বস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। সহজভাবে বলতে গেলে, মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রকৃতিকে রূপান্তর করে যা কিছু তৈরি করা হয়, তাই বস্তুগত সংস্কৃতি। এটি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে খুব দ্রুত বিবর্তিত হয়।
বস্তুগত সংস্কৃতি কেবল ব্যবহারের সামগ্রী নয়, বরং এটি কোনো নির্দিষ্ট জনপদের মানুষের রুচি, সক্ষমতা এবং পরিবেশের সাথে তাদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার দক্ষতার পরিচয় দেয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের গ্রামীণ কুঁড়েঘর বা নকশিকাঁথা যেমন আমাদের বস্তুগত সংস্কৃতির অংশ, তেমনি জাপানের সুউচ্চ দালান বা অত্যাধুনিক রোবটিক্স তাদের সংস্কৃতির পরিচায়ক। বস্তুগত সংস্কৃতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর স্থায়িত্ব; অর্থাৎ, কোনো সভ্যতা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও তাদের ব্যবহৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো থেকে সেই সময়ের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এটি অবস্তুগত সংস্কৃতির (যেমন বিশ্বাস বা মূল্যবোধ) ধারক হিসেবে কাজ করে এবং মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও গতিশীল করে তোলে।