যখন একটি এসিড এবং একটি ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তখন তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। আণবিক স্তরে এটি মূলত এসিড থেকে আসা হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এবং ক্ষার থেকে আসা হাইড্রোক্সিল আয়নের (OH–) মিলন, যার ফলে পানি (H2O) তৈরি হয়। এই বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলো হারিয়ে যায় এবং দ্রবণটি নিরপেক্ষ হওয়ার দিকে ধাবিত হয়।
প্রশমন বিক্রিয়ার ব্যবহার আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে প্রচুর। যেমন, আমাদের পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হলে অ্যাসিডিটি হয়। তখন আমরা এন্টাসিড (যেমন ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড) গ্রহণ করি যা পাকস্থলীর এসিডকে প্রশমিত করে আরাম দেয়। আবার কৃষি জমিতে মাটি বেশি অম্লীয় হয়ে গেলে চুন (ক্ষারীয়) ব্যবহার করে মাটির pH মান ঠিক করা হয়। শিল্পকারখানার বর্জ্য অনেক সময় অত্যন্ত অম্লীয় বা ক্ষারীয় হয়, যা সরাসরি জলাশয়ে ফেললে পরিবেশের ক্ষতি করে। তাই ইটিপি (Effluent Treatment Plant) প্লান্টে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে বর্জ্যকে নিরপেক্ষ করে পরিবেশে ছাড়া হয়। দাঁত মাজার পেস্ট সাধারণত ক্ষারীয় হয় যাতে এটি মুখের ভেতরের এসিডকে প্রশমিত করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে পারে।