মৌলিক গণতন্ত্র হলো পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান প্রবর্তিত একটি বিশেষায়িত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। ১৯৫৯ সালে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে তিনি এটি চালু করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমা ধাঁচের সরাসরি সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একটি নিয়ন্ত্রিত ও পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আইয়ুব খানের মতে, সাধারণ মানুষ সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের জটিল রাজনীতি বোঝার মতো সচেতন নয়, তাই তাদের কেবল স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া উচিত। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে কিছু সদস্য নির্বাচিত হতেন, যারা পরবর্তীতে উচ্চতর পরিষদের প্রতিনিধি এবং দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষমতা রাখতেন।
এই ব্যবস্থাটি মোট পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত ছিল, যার সর্বনিম্ন স্তর ছিল ইউনিয়ন কাউন্সিল। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলিয়ে মোট ৮০,০০০ সদস্য (উভয় অংশ থেকে ৪০,০০০ করে) নির্বাচিত হতেন, যাদের ‘মৌলিক গণতন্ত্রী’ বা Basic Democrats বলা হতো। তবে এই ব্যবস্থাটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে, কারণ এটি ছিল মূলত আইয়ুব খানের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার একটি রাজনৈতিক কৌশল। সাধারণ মানুষের সরাসরি ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়ে কেবল মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা ন্যস্ত করায় একে “গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে একনায়কতন্ত্র” হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটে।