রাসায়নিক বিক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে এক বা একাধিক পদার্থ (যাদের বিক্রিয়ক বা Reactants বলা হয়) তাদের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বন্ধন ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট এক বা একাধিক পদার্থে (যাদের উৎপাদ বা Products বলা হয়) পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াটি মহাবিশ্বের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য। বিক্রিয়া চলাকালীন পরমাণু সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না, বরং তাদের মধ্যেকার ইলেকট্রন আদান-প্রদান বা ভাগাভাগির মাধ্যমে নতুন বিন্যাস তৈরি হয়।
একটি বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার পেছনে প্রধানত ‘সংঘর্ষ তত্ত্ব’ (Collision Theory) কাজ করে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, বিক্রিয়ক অণুগুলোকে একে অপরের সাথে নির্দিষ্ট অভিমুখে এবং একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম শক্তি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে হয়। এই ন্যূনতম শক্তিকে বলা হয় সক্রিয়ণ শক্তি (Activation Energy)। যখন অণুগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন তাদের পুরানো বন্ধনগুলো ভেঙে যায় এবং নতুন বন্ধন তৈরি হওয়ার সুযোগ পায়। বিক্রিয়ার এই মধ্যবর্তী অবস্থাকে বলা হয় ‘Transition State’ বা অবস্থান্তর অবস্থা। একটি বিক্রিয়া কতটা দ্রুত ঘটবে তা নির্ভর করে অণুগুলোর ঘনমাত্রা, তাপমাত্রা এবং প্রভাবকের উপস্থিতির ওপর। উদাহরণস্বরূপ, তাপমাত্রা বাড়ালে অণুগুলোর গতিশক্তি বাড়ে, ফলে কার্যকর সংঘর্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং বিক্রিয়া দ্রুততর হয়।