- অভ্যাসের ক্ষেত্রে “পরিবেশ” এর ভূমিকা কী?
- ভূমিকম্প, ভূমিকম্পের কারণ, ভূমিকম্পের প্রভাব
- ভূমিকম্পের সময় কয় ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়?
ভূমিকম্পের দেশ কাকে বলে?
ভূমিকম্পের দেশ হিসেবে জাপান বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এর প্রধান কারণ হল দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান। জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’ (Ring of Fire) নামক একটি অত্যন্ত ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এই কাল্পনিক বেল্টটি প্রধানত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ঘোড়ার খুরের মতো ঘিরে রেখেছে এবং এখানে বিশ্বের অধিকাংশ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। জাপান মূলত চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের (প্রশান্ত মহাসাগরীয়, ফিলিপাইন, ওখটস্ক এবং ইউরেশীয় প্লেট) সীমানায় অবস্থিত। এই প্লেটগুলোর মধ্যে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ, ঘর্ষণ এবং একটির নিচে আরেকটির অধোগমন (subduction) হওয়ার ফলে এই অঞ্চলে নিয়মিতভাবে প্রচুর পরিমাণে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। প্রতি বছর এই দেশে গড়ে প্রায় দুই হাজার বা তারও বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার অধিকাংশই অবশ্য মৃদু বা ক্ষীণ হয়ে থাকে।
ভূমিকম্পের এই উচ্চ হার এবং তীব্রতার কারণেই জাপানকে এই বিশেষ নামে ডাকা হয়। যদিও জাপানে প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো ভূমিকম্প হয়, তবুও দেশটি বারবার বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, যেমন- ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামি। এই ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে জাপান সরকার এবং জনগণ দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। জাপানের স্থাপত্য, নির্মাণ কৌশল, এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশটি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। সেখানকার ভবনগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে তারা শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত সহ্য করতে পারে। এই ধরনের প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতার কারণেই জাপান ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় অন্যান্য দেশের জন্য একটি আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়।