মানুষ জাতি
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথি।
শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলি ভাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।
বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ
ভিতরের রং পলকে ফোটে,
বামুন, শূদ্র, বৃহৎ, ক্ষুদ্র
কৃত্রিম ভেদ ধূলায় লোটে।
বংশে বংশে নাহিকো তফাত
বনেদি কে আর গর-বনেদি,
দুনিয়ার সাথে গাঁথা বুনিয়াদ
দুনিয়া সবারি জনম-বেদি।
মানুষ জাতি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন
১. রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন বন্ধু। ঈদ, পূজা ও বড়দিনে তারা একে অন্যের বাড়ি বেড়াতে যায়। আনন্দে-উৎসবে, সুখে-দুঃখে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে। এরূপ আচরণে তাদের বাবা-মা খুব খুশি। রহিমের বাবা বলেন, ‘তোমরা অসাধারণ। তোমাদের মতো সবাই বন্ধুসুলভ হলে এ পৃথিবী আরো সুন্দর বাসস্থান হবে।’
ক. ‘মানুষ জাতি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
খ. ‘দুনিয়া সবারি জনম-বেদি’- একথা দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার কোন বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই যেন ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল সুর।”- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।