- তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে কী বলে?
- ব্যবহারকারীর বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া কোনটি থেকে তথ্য মুছে ফেলা যায় না?
- জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রশ্ন উত্তর
- ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা Definition of Management
ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা Importance of Management
ব্যবস্থাপনা একটি নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রমের সমষ্টিগত প্রক্রিয়া। ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার কার্যসমূহ হচ্ছে পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, নির্দেশনা ও নেতৃত্বদান, প্রেষণা, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণ। ব্যবস্থাপনা এমন সব মৌলক কার্য নির্দেশিকাকে বুঝায় যা ব্যবস্থাপনার জন্য পথ-নির্দেশ হিসেবে কাজ করে এবং যে কোন সংগঠনে প্রয়োগ করা যায়। ব্যবস্থাপকদের আদেশ-নির্দেশ দেয়ার অধিকার আছে যাতে তারা কর্মীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারে। কর্মীরা যাতে স্বাধীনভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মীদের উদ্যোগ উৎসাহিত করা ব্যবস্থাপকের কর্তব্য। নিচে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বর্ণনা করা হলঃ
১. লক্ষ্য অর্জন: (Achievement of Goal): প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে। এই
উদ্দেশ্যকে ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কার্যাবলীর সাহায্যে বাস্তবায়িত করা হয়। সুতরাং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য অর্জনে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম।
২. দক্ষতা বৃদ্ধি (Increase Efficiency): উদ্দেশ্য অর্জনের সংগে সংগে প্রশিক্ষণও সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব ভূমিকা পালন করে।
৩. ব্যবসায়ের উপকরণাদির উন্নয়ন (Development of Business Components): ব্যবসায়-বাণিজ্যে ছয়টি উপকরণ
রয়েছে। যথা- মানুষ, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, অর্থ, পদ্ধতি ও বিপনণ (Man, Material, Machine, Money, Method & Marketing)। দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই উপকরণাদি সংগৃহীত, একত্রিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
৪. উৎপাদনের উপকরণাদির সুষ্ঠু ব্যবহার (Proper Utilization of Production Factors): ধরুন একটি প্রতিষ্ঠানে
শ্রমিক কর্মীর সংখ্যা যথেষ্ট, মূলধনেরও সমস্যা নেই, উন্নতমানের যন্ত্রপাতি এবং বিস্তৃত বাজারও রয়েছে। এখন এগুলো সঠিক ভাবে কাজে লাগাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না এগুলোর পেছনে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ক্রিয়াশীল হবে। তাই উৎপাদনের উপকরণ সমূহের সঠিক ব্যবহারের জন্য দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
৫. মানব ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন (Human & Economic Development): ব্যবস্থাপনার সাহায্যে মানুষের প্রচেষ্টা সমন্বিত হয় এবং কাজের উৎসাহ পাওয়া যায়। এতে স্বতঃস্ফূর্ত কাজের পরিবেশ সৃষ্টি হয় যা অর্থনীতির অনুকূল পরিবর্তন সাধন করে।
৬. অপচয় হ্রাস (Reduction of Wastage): বর্তমানকালে ব্যবস্থাপনার শ্লোগান হল, ‘কম খরচে বেশী উৎপাদন।’
এজন্যে বর্তমান ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপক ও শ্রমিকদের কার্যের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে, উৎপাদনে শৈল্পিক পরিবেশ নিশ্চিত করে এবং সমস্ত উপকরণ সমূহের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে কারবার প্রতিষ্ঠানের অপচয় হ্রাস করে।
৭. শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা (Establishment of Discipline): শৃংখলা যে কোন প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য দেখা যায় যে, ব্যবস্থাপক তাঁর প্রতিষ্ঠানের বা এর কোন বিভাগের সকল কর্মী ও উপকরণের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও ভারসাম্য স্থাপন করেন এবং শৃংখলা প্রতিষ্ঠার দ্বারা এদের প্রত্যেকের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করেন।
৮. সম্পর্ক উন্নয়ন (Development of Relationship): ব্যবস্থাপনা মালিক ও শ্রমিক অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত সকল পক্ষের মধ্যে উত্তম সম্পর্ক সৃষ্টি ও উন্নয়নে সচেষ্ট থাকে। শুধু তাই নয় সঠিক ব্যবস্থাপনা ক্রেতা বা ভোক্তা এবং বিদেশী উদ্যোক্তাদের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৯. নেতৃত্ব প্রদান (Leading): উত্তম ব্যবস্থাপনা হচ্ছে নেতৃত্বের গভীরতা ও প্রসারতার বহিঃপ্রকাশ। ব্যবস্থাপনা ব্যতীত কোন মতবাদ, দলীয় কার্যাবলী উৎপাদন বৃদ্ধির সহায়ক হয় না।
১০. কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি (Creation of Employment Opportunity): দক্ষ ব্যবস্থাপনা কোন প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ ও নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়তে সহায়তা করে। তাই দেখা যায়, পৃথিবীর যে দেশ শিল্প ক্ষেত্রে যত অগ্রগতি লাভকরেছে, সে দেশে তত বেশী নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
১১. গবেষণা ও উন্নয়ন (Research & Development): বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যে জ্ঞান আবিষ্কার করে, দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই তাকে বাস্তবে রূপদান ও এর সুফল জনগণের দ্বারে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে।
১২. সামাজিক উন্নয়ন (Social Development): ব্যবস্থাপনা সমাজে একদল দক্ষ লোক সৃষ্টি করে। এভাবে বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষতা প্রদানকরে সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৩. জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন (Raising Standard of Living): মানুষের মাথাপিছু আয় ও ভোগের উপর জীবনযাত্রার মান নির্ভর করে। এজন্য কর্মসংস্থান, পদোন্নতি, আর্থিক উন্নয়ন, সুলভে পণ্য বন্টন, উৎপাদন বৃদ্ধি, কমমূল্যে উন্নত মানের পণ্য সরবরাহ ও তা সহজ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করে ব্যবস্থাপনা মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
Frequently Asked Questions
১. ব্যবস্থাপনার মূল গুরুত্ব কোথায়?
ব্যবস্থাপনার মূল গুরুত্ব হলো একটি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যগুলো সুশৃঙ্খলভাবে এবং দক্ষতার সাথে অর্জন করা। এটি বিশৃঙ্খল পরিবেশকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোতে রূপান্তর করে।
২. ব্যবস্থাপনা কীভাবে লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে?
ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে এবং সেই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, সংগঠন ও নির্দেশনা প্রদান করে, যা সাফল্যের পথ সুগম করে।
৩. সম্পদের সঠিক ব্যবহার বলতে কী বোঝায়?
একটি প্রতিষ্ঠানের ৫টি মূল সম্পদ (মানুষ, অর্থ, মেশিন, মাল বা উপকরণ এবং পদ্ধতি) যাতে অপচয় না হয়ে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, ব্যবস্থাপনা সেই কাজটাই করে।
৪. ব্যবস্থাপনা কীভাবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে?
কাজের সঠিক বণ্টন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়।
৫. খরচ কমাতে ব্যবস্থাপনার ভূমিকা কী?
সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ভুল সিদ্ধান্ত এবং সম্পদের অপচয় রোধ করে ব্যবস্থাপনা উৎপাদন খরচ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সাহায্য করে।
৫. খরচ কমাতে ব্যবস্থাপনার ভূমিকা কী?
সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ভুল সিদ্ধান্ত এবং সম্পদের অপচয় রোধ করে ব্যবস্থাপনা উৎপাদন খরচ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সাহায্য করে।
৬. প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এটি কেন জরুরি?
ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা এবং কর্তৃত্বের ভারসাম্য তৈরি করে, যা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষা করে।
৬. প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এটি কেন জরুরি?
ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা এবং কর্তৃত্বের ভারসাম্য তৈরি করে, যা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষা করে।
৭. কর্মীদের উন্নয়নে ব্যবস্থাপনা কীভাবে কাজ করে?
প্রশিক্ষণ, অনুপ্রেরণা এবং সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে কর্মীদের ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিতে ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৮. টিমের মধ্যে সমন্বয় সাধন কেন প্রয়োজন?
একটি বড় প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগ থাকে। ব্যবস্থাপনা এই বিভাগগুলোর মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে যাতে সবাই মিলে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করতে পারে।
৯. কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যবস্থাপনার কাজ কী?
ন্যায্য বেতন, বোনাস, পদোন্নতি এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
১০. পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাজার বা প্রযুক্তির পরিবর্তন দ্রুত ঘটে। একটি ভালো ব্যবস্থাপনা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এই পরিবর্তনগুলোর সাথে প্রতিষ্ঠানকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
১১. নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও ত্রুটি সংশোধনে ব্যবস্থাপনা কেন প্রয়োজন?
পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না তা তদারকি করাকে নিয়ন্ত্রণ বলে। ব্যবস্থাপনা কাজের প্রতিটি স্তরে মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেয় এবং সেই অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি যাচাই করে। যদি লক্ষ্যমাত্রা থেকে কাজে কোনো বিচ্যুতি ঘটে, তবে ব্যবস্থাপনা তার কারণ অনুসন্ধান করে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ চুরি হওয়া বা অপচয় হওয়া ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ফলে কর্মীরাও কাজে সচেতন থাকে। এটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মান বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যৎ ভুলের হার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১২. প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্ব নিশ্চিতকরণে ভূমিকা কী?
অনেক প্রতিষ্ঠান শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রধান কারণ হলো অব্যবস্থাপনা। ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করে যা দীর্ঘকাল টিকে থাকতে সাহায্য করে। এটি কেবল বর্তমান লাভের কথা ভাবে না, বরং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করে। আর্থিক ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ নীতি এবং বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে চলার কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। একটি সুপরিচালিত প্রতিষ্ঠান দশকের পর দশক ধরে সফলতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে, যা কেবল দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই সম্ভব।