জলপ্রপাতের শ্রেণিবিভাগ করো।

নদীর গতিপথে হঠাৎ জলতলের পতনকে বলে জলপ্রপাত। প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুসারে জলপ্রপাতকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথাঃ ক) র‌্যাপিডঃ উচ্চ বা পার্বত্য প্রবাহে নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা পাশাপাশি উল্লম্বভাবে অবস্থান করলে নদীর অসম ক্ষয়কার্যের ফলে সিঁড়ির মতো ছোটো ছোটো ধাপের সৃষ্টি হয়। ফলে নদী লাফিয়ে লাফিয়ে অগ্রসর হয়। এই ধরনের জলপ্রপাতকে … Read more

স্বাভাবিক বাঁধ কী?

সংজ্ঞাঃ নদীর গতিপথে প্লাবনভূমিতে নদীর দুই তীর বরাবর নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে যে অল্প উচুঁ বাঁধের মতো ভূমিরূপ গঠিত হয়, তাকে স্বাভাবিক বাঁধ বলে। বৈশিষ্ট্যঃ১) স্বাভাবিক বাঁধের উচ্চতা নদী তীরবর্তী অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি হয় এবং পিছনের দিকে এটি ক্রমশ ঢালু হয়ে নেমে যায়।২) স্বাভাবিক বাঁধ প্লাবনভূমির সবচেয়ে উঁচু অংশ (প্লাবনভূমি থেকে 2-3 মিটার উঁচু) এবং তাই … Read more

নদীবাঁক বলতে কী বোঝো?

সংজ্ঞাঃ নদীর মধ্যগতিতে এবং নিম্নগতিতে নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়। নদীর প্রবাহপথের এই বাঁকা অংশকে নদীবাঁক বা মিয়েন্ডার বলে। তুরস্ক বা এশিয়া মাইনরের ‘মিয়েন্ড্রস’ (Meandros) নামক বাঁকবহুল নদীর নাম থেকেই নদীবাঁককে মিয়েন্ডার (meander) নামে অভিহিত করা হয়েছে। বৈশিষ্ট্যঃ ১) নদীবাঁকের অংশে নদীর জল কর্কের মধ্যে কর্ক-স্ক্রু ঢোকার মতো ঘুরতে ঘুরতে প্রবাহিত হয়। একে কুণ্ডলী প্রবাহ … Read more

পলল ব্যজনী বা পলল পাখা কাকে বলে?

সংজ্ঞাঃ পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে নদীবাহিত নুড়ি, কাকর, বালি, পলি প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে হাতপাকার মতো দেখতে প্রায় গোলাকার যে ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, তাকে পলল পাখা বা পলল ব্যজনী বলে। সৃষ্টির কারণঃ পার্বত্য অঞ্চল থেকে সমভূমিতে নেমে আসার সময় ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় নদী পর্বতের পাদদেশে পার্বত্য অঞ্চল থেকে বহন করে আনা ক্ষয়জাত পদার্থ সঞ্চয় করে … Read more

খাঁড়ি কি?

মোহনার কাছে নদী অসংখ্য শাখায় বিভক্ত হয়ে সমুদ্রে পতিত হয়। নদীর এই শাখাগুলি তাদের উৎসমুখে পলি সঞ্চয়ের ফলে একসময় মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তখন এগুলিকে খাঁড়ি (খাঁড়ির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল Estuary, যার অর্থ হল Tidal Mouth) বলে। এই খাঁড়িগুলি জোয়ারের জলে পুষ্ট হয়। খাঁড়ির বৈশিষ্ট্য ১) খাঁড়িগুলি জোয়ারের জলে পুষ্ট হয়।২) খাঁড়িগুলির … Read more

প্রপাতকূপ কাকে বলে?

সংজ্ঞাঃ পার্বত্য প্রবাহে নদীর জলপ্রপাতের ঠিক তলদেশে বর্তুলাকার যে গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রপাতকূপ বা প্লাঞ্জপুল বলে। পতনশীল জলপ্রপাতের জলধারা ও প্রস্তরখন্ডের আঘাতে জলপ্রপাতের তলদেশের শিলাস্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে প্রায় গোলাকার প্রপাতকূপ গঠন করে। প্রপাতকূপের বৈশিষ্ট্য ১) প্রপাতকূপগুলি আয়তনে কিছুটা বড়ো ও গভীর হয়। তবে এগুলির আয়তন ও গভীরতা জলপ্রপাতের উচ্চতা, জলের আয়তন ও প্রস্তরখন্ডের পরিমাণের … Read more

আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরা কী? বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ

সংজ্ঞাঃ পার্বত্য অঞ্চলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রই নদীপথের দু-পাশে শৈলশিরাগুলি এমনভাবে অবস্থান করে যে, নদীগুলি তাদেরকে এড়িয়ে আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হতে বাধ্য হয়। এদের দেখলে মনে হয় যে নদীর দুই দিকের পাহাড়গুলি অভিক্ষিপ্তাংশরূপে নদী উপত্যকায় নেমে এসে পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করেছে। এইরূপ শৈলশিরার অভিক্ষিপ্তাংশকে আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বলে। আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরার বৈশিষ্ট্য ১) নদীর গতিপথে … Read more

ক্যানিয়ন কাকে বলে? বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ

সংজ্ঞাঃ ‘Canyon’ শব্দটি একটি স্পেনীয় শব্দ ‘Canon’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হল tube বা নল। সুতরাং শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চল বা মালভূমি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর দ্বারা সৃষ্ট নলের মতো সংকীর্ণ ও গভীর যে গিরিখাতের সৃষ্টি হয়, তাকে ক্যানিয়ন বলে। নদী পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় অত্যন্ত বেশি করায় খুবই সংকীর্ণ এবং সুগভীর ক্যানিয়নের সৃষ্টি হয়। বৈশিষ্ট্য১) … Read more

error: Content is protected !!