বাঁচতে দাও কবিতা ও প্রশ্ন উত্তর

বাঁচতে দাও
শামসুর রাহমান

এই তো দ্যাখো ফুলবাগানে গোলাপ ফোটে,
ফুটতে দাও।
রঙিন কাটা ঘুড়ির পিছে বালক ছোটে,
ছুটতে দাও।

নীল আকাশের সোনালি চিল মেলছে পাখা,
মেলতে দাও।
জোনাক পোকা আলোর খেলা খেলছে রোজই,
খেলতে দাও।

মধ্য দিনে নরম ছায়ায় ডাকছে ঘুঘু,
ডাকতে দাও।
বালির ওপর কত্ত কিছু আঁকছে শিশু,
আঁকতে দাও।

কাজল বিলে পানকৌড়ি নাইছে সুখে,
নাইতে দাও।
গহিন গাঙে সুজন মাঝি বাইছে নাও,
বাইতে দাও।

নরম রোদে শ্যামা পাখি নাচ জুড়েছে,
নাচতে দাও।
শিশু, পাখি, ফুলের কুঁড়ি-সবাইকে আজ
বাঁচতে দাও।

বাঁচতে দাও কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন

১. খাল-বিল, নদী-নালা আর পুকুরে ভরা এই দেশ। ছোটবেলায় গ্রামের খাল-বিল-পুকুরেই সাঁতার কাটা শিখেছিলেন নাজির সাহেব। সন্তানদের নিয়ে তিনি এখন শহরে বাস করেন। গ্রামের বাড়িতেও আগের সেই খাল-বিল-পুকুর নেই। সন্তানদের সাঁতার কাটা শেখাতে পারছেন না। নাজির সাহেব আক্ষেপ করে বলেন, এভাবে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটলে আমাদের আগেকার জীবনযাত্রা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কেবল কাগজ-কলমেই বেঁচে থাকবে।

ক. প্রতিদিন কে আলোর খেলা খেলছে?
খ. কাজল বিলে পানকৌড়িকে নাইতে দেওয়ার আহ্বান দ্বারা কবি কী বুঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সাঁতার কাটার সঙ্গে ‘বাঁচতে দাও’ কবিতার শিশুর কাজটির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের নাজির সাহেবের আক্ষেপের মধ্যে ‘বাঁচতে দাও’ কবিতার মূল সুরটি ফুটে উঠেছে।” – মন্তব্যটি প্রমাণ কর।

২. চলে যাবো-তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

বাসা থেকে একটু দূরে অন্যদের খেলতে দেখে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মিতুরও খেলার প্রবল আগ্রহ জাগে। কিন্তু বাড়ি থেকে তার বের হতে বাধা। তার চিন্তা, উপরের চরণগুলোর বাস্তবায়ন ঘটিয়ে কেউ যদি তার সে বাধা দূর করে দিত।

ক. সুজন মাঝি কোথায় নৌকা বাইছে?
খ. “ফুটতে দাও, ছুটতে দাও”-এ কথাগুলো দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের মিতুর সঙ্গে ‘বাঁচতে দাও’ কবিতার শিশুর যে মিল রয়েছে তার বর্ণনা দাও।
ঘ. “কবির আহ্বান আর উদ্দীপকের চরণগুলোর অঙ্গীকার একই সূত্রে গাঁথা।”-উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

error: Content is protected !!