প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয় – ব্যাখ্যা করো

প্রকৃতির সঙ্গে সুভার গভীর সম্পর্কের বিষয়টিই উন্মোচিত হয়েছে আলোচ্য মন্তব্যে।সুভা নদীর তীরে বসলে নদীর কলধ্বনি, লোকের কোলাহল, মাঝির গান, পাখির ডাক, তরুর মর্মর – সমস্ত মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত। এগুলো যেন তার হয়ে কথা বলত। প্রকৃতির এই বিবিধ শব্দ এবং বিচিত্র গতিও সুভার ভাষার মতো নীরব অথচ বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। আর তাই লেখক বলেছেন, ‘প্রকৃতি যেন … Read more

সুভার পিতা চিন্তিত হয়ে পড়লেন কেন?

বাকপ্রতিবন্ধী সুভা বিবাহযোগ্য হয়ে ওঠায় তার বিয়ে নিয়ে পিতা-মাতা চিন্তিত হয়ে পড়লেন।সুভা গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। এ নিয়ে সকলের মনে দুশ্চিন্তা ছিল। তার ওপর সুভার বয়সও বেড়ে যাচ্ছে। তাই বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে কোথায় বিয়ে দেবেন তাই নিয়ে পিতা-মাতা শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। এ ছাড়া বিয়ের বয়স হলেও বিয়ে দিচ্ছে না বলে গ্রামের লোকজন নিন্দা শুরু … Read more

সুভা শষ্পশয্যায় লুটিয়ে পড়ল কেন?

চিরচেনা প্রকৃতি ছেড়ে কলকাতায় চলে যাওয়ার বেদনা প্রকৃতির সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য সুভা শষ্পশয্যায় লুটিয়ে পড়ল।সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। সুভার অনুভূতি প্রকৃতভাবে অনুধাবন করতে পারে শুধু প্রকৃতি। এই জন্য এই প্রকৃতি সুভার মা, আপনজন। সুভার অমতে তার বাবা-মা কলকাতায় বিবাহ ঠিক করে। ফলে সুভাকে এই মাতৃরূপ প্রকৃতি ছেড়ে শহরে চলে যেতে হবে। এই কথা ভাবতে সুভার … Read more

প্রতাপের প্রতি তার মা-বাবার নিরাশ হবার কারণ বুঝিয়ে লিখ।

প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য বলে তার মা-বাবা নিরাশ ছিল।প্রতাপ ছিল মা-বাবার অকর্মণ্য ছেলে। অনেক চেষ্টা করেও তাকে দিয়ে সংসারের উন্নতি হয় এমন কোনো কাজ করানো সম্ভব হয়নি। সে ছিল নিতান্ত অলস। কেবল সময় কাটানোর জন্য সে অপরাহ্ণে নদীতীরে ছিল ফেলে মাছ ধরত। এসব কারণে তার মা-বাবা তার প্রতি নিরাশ ছিল।

বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব আছে – সুভা গল্পের লেখকের এই উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে লেখক ভাষাহীন মানুষের মনোজগতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।নির্জন প্রকৃতির মধ্যেও যেমন ভাষা থাকে, বাকপ্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রেও তাই। কথা বলতে না পারলেও আকারে-ইঙ্গিতে নানাভাবে তারা তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে। শুধু তা-ই নয়, বাইরের জগতের সঙ্গে তেমনভাবে মিশতে পারে না বলে আপন মনেই ভাবনাগুলোকে তারা নিজের মতো করে সাজায়। এভাবে চিন্তালোকে তারা গড়ে তোলে … Read more

মা সুভাষিণীকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন কেন?

সুভা বাকপ্রতিবন্ধী বলে মা সুভাষিণীকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন। মায়েরা পুত্র অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন। তাই কন্যার কোনো অপূর্ণতা দেখলে সেটাকে বিশেষরূপে নিজের কলঙ্ক বলে মনে করেন তারা। সুভা গল্পের সুভার মা ও প্রতিবন্ধী কন্যাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক হিসেবে জ্ঞান করেন।তাই সুভা যেন তার মায়ের ত্রুটিরই স্বাক্ষর।

সুভা গল্পে গ্রামলক্ষী স্রোতঃস্বিনী কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

সুভা গল্পে গ্রামলক্ষী স্রোতঃস্বিনী বলতে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদীটির মাহাত্ম্য বোঝানো হয়েছে।আলোচ্য গল্পে বর্ণিত গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ছোটো একটি নদী। আপন খেয়ালে অবিরামভাবে বয়ে চলেছে সে। চলার পথে দুধারে সৃষ্টি করেছে শ্যামলিমা ও সমৃদ্ধি। গ্রামটি যেন এ নদীর আশীর্বাদপুষ্ট। নদীটিকে তাই সৌভাগ্যের দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে তুলনা করেছে।

অকর্মণ্য লোকের উপর আত্মীয়রা বিরক্ত হলেও তারা নিঃসম্পর্ক লোকদের প্রিয়পাত্র হয় কেন?

অকর্মণ্য লোকের উপর আত্মীয়রা বিরক্ত হলেও কর্মহীন হওয়ায় নিঃসম্পর্ক মানুষের নানা উপকারে আসে বলে তারা তাদের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে।অকর্মণ্য লোকেরা সংসারে উন্নতির জন্য কোনো কাজ করে না বলে আত্মীয়রা তাদের উপর বিরক্ত থাকে। কিন্তু এই অকর্মণ্য লোকেরাই আবার নিঃসম্পর্ক মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে। কারণ, বিশেষ কোনো কাজে আবদ্ধ না থাকায় তাদের হাতে অনেক সময় থাকে। … Read more

error: Content is protected !!