আলাউদ্দিনের চেরাগ

বর্ণনামূলক প্রশ্ন

১. না ডাকতেই দৈত্য নিশানাথ বাবুকে সাহায্য করতে এসেছিলেন কেন?

উত্তরঃ নিশানাথ বাবুর শারীরিক অবস্থার দেখে দৈত্য নিশানাথ বাবুকে সাহায্য করতে নিজেই আসে।
আরব্য প্রচলিত গল্প অনুযায়ী আলাউদ্দিনের চেরাগ বা প্রদীভে ঘষা দিলে ভেতর থেকে একটা দৈত্য আসে। আলাউদ্দিনের চেরাগ গল্পে ভুলবশত প্রদীপ ঘোষায় দৈত্য আসলেও নিশানাত বাবু তার কাছে দুর্লভ কিছু চায়না। নিশানাত বাবুর পরিবারে কেউ না থাকায় তার নিজের কাজ নিজেকেই করতে হতো। একদিন রাতে নিশানাত বাবুর জোর আসলে তিনি পানির জন্য ছটফট করতে থাকেন কিন্তু বাতের ব্যথায় বিছানা থেকে উঠতে পারছিলেন না। নিশানাত বাবুর এরকম পিপাসার্ত করুণ অবস্থা দেখে চেরাগ না ঘষা ছাড়াই তাকে পানি খাওয়ানোর জন্য দৈত্য চলে আসে।
মুমূর্ষু নিশানাথ বাবুর প্রতি সহমিতার জন্য দৈত্যকে তিনি না ডাকলেও দায়িত্ব নিজ থেকে সেবা করতে আসে।

২. নিশানাথবাবুর সমাজের নির্লোভ মানুষের প্রতিচ্ছবি- ব্যাখ্যা করো।

জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার লেখনীর মাধ্যমে অসাধারণ কল্পকাহিনী আমাদের উপহার দেন। আলাউদ্দিনের চেরাগ গল্পে তিনি দৈত্য চরিত্রের সাথে শিক্ষক নিশানাথববাবুর সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে নিশাত বাবুর নির্লোভ মানসিকতা ফুটিয়ে তুলেছেন।
আলাউদ্দিনের চেরাগ গল্পের নিশানাথ বাবু সমাজের নির্লোভ ও সৎ মানুষের প্রতিচ্ছবি। তিনি খুব সাধারণভাবে জীবন যাপন করেন। আলাউদ্দিনের চেরাগ পেলেও তিনি তা অপব্যবহার বা নিজের বিলাসিতার জন্য ব্যবহার করেননি। দৈত্য তাকে বারবার বিভিন্নভাবে টাকা, সোনা, পরশপাথর ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য করতে চাইলেও তিনি তা নেননি। বরং দৈত্য থেকে পাওয়া বিশ সের ওজনের সোনার বালতিটি স্কুলে দিয়ে দিয়েছেন।
নিশানাথবাবুর নীতিনিষ্ঠ আচরণ সমাজের সৎ মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করে। যারা লোভ বা স্বার্থপরতার বশবর্তী হয়ে কেবল নিজের সুবিধা চায় না। সমাজের কথা, অন্যের কথা ভাবে। পরশপাথর ও সোনা পাওয়ার পরও তিনি লোভ না করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। যা নির্লোভ ও মুহূর্তের বড় দৃষ্টান্ত।
নিশানাথবাবুর এই গুণগুলোর মধ্যে দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ তাকে সমাজের সৎ ও নির্লোভ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

error: Content is protected !!