আসমানি কবিতা ও প্রশ্ন উত্তর

আসমানি
জসীমউদ্দীন

আসমানিরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা – ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানিরা থাকে বছর ভরে।

পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক’খান হাড়,
সাক্ষী দেছে অনাহারে কদিন গেছে তার।
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি,
থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি।
পরনে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস,
সোনালি তার গার বরনের করছে উপহাস।
ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাই কৌতুক-হাসি,
সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি।
বাঁশির মতো সুরটি গলায় ক্ষয় হল তাই কেঁদে,
হয়নি সুযোগ লয় যে সে-সুর গানের সুরে বেঁধে।

আসমানিদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে,
ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল-বিল-বিল করে।
ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিছে জলে,
সেই জলেতে রান্না খাওয়া আসমানিদের চলে।
পেটটি তাহার ফুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার,
বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে পয়সা নাহি আর।

আসমানি কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন

১। গ্রামের দরিদ্র কৃষক লালচান মিয়া। তিনি বিঘে তিনেক জমি বর্গা চাষ করেন। পর-পর দুবছর বন্যা ও খরায় জমিতে ফসল ফলেনি। পরিবারকে দু-বেলা পেট ভরে খেতে দিতে পারেন না। তিনি না খেতে পেয়ে তাঁর সন্তানদের হাড্ডিসার অবস্থা। একটিমাত্র মাটির ঘর, তারও আবার ছাউনি নষ্ট হওয়ার উপক্রম। বৃষ্টি বাদলার রাতে ঘরের কোণে বসে রাত কাটাতে হয়। লালচান মিয়ার মতো মানুষগুলোর অভাব যেন পিছু ছাড়ে না।

ক. আসমানিদের গ্রামের নাম কী?
খ. মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি, থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি।-এই চরণ দুটি দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে?
গ. আসমানিদের ঘরের সাথে লালচান মিয়ার ঘরটির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘লালচান মিয়ার মতো মানুষগুলোর অভাব যেন পিছু ছাড়ে না।’ ‘আসমানি’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ কর।

error: Content is protected !!