প্রত্যুপকার গল্পের প্রশ্ন উত্তর

প্রত্যুপকার গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

১. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি কার লেখা?
উত্তর:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর লেখা।

২. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তর:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল উদ্দেশ্য উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

৩. গল্পে আলী আব্বাস কে ছিলেন?
উত্তর:
গল্পে আলী আব্বাস ছিলেন খলিফা মামুনের একজন প্রিয়পাত্র।

৪. আলী আব্বাস কোথায় আশ্রয় নিয়েছিলেন?
উত্তর:
আলী আব্বাস দামেস্কের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

৫. নতুন শাসনকর্তা কে ছিলেন?
উত্তর:
নতুন শাসনকর্তা ছিলেন খলিফার একজন প্রিয়পাত্র আলী ইবনে আব্বাস।

৬. গল্পের খলিফার নাম কী?
উত্তর:
গল্পে খলিফার নাম ছিল খলিফা মামুন।

৭. আলী আব্বাস কার সাহায্যে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন?
উত্তর:
এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সাহায্যে আলী আব্বাস প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন।

৮. গল্পে আলী আব্বাসকে কে সাহায্য করেছিলেন?
উত্তর:
গল্পে আলী আব্বাসকে দামেস্কের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি সাহায্য করেছিলেন।

৯. খলিফা মামুন কেমন প্রকৃতির মানুষ ছিলেন?
উত্তর:
খলিফা মামুন ন্যায়পরায়ণ ও দয়ালু প্রকৃতির মানুষ ছিলেন।

১০. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে কোন শহরের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে দামেস্ক শহরের কথা বলা হয়েছে।

১১. আলী আব্বাসকে কে পদচ্যুত করেছিলেন?
উত্তর:
আলী আব্বাসকে কে খলিফা মামুন পদচ্যুত করেছিলেন।

১২. আলী আব্বাস কার ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন?
উত্তর:
আলী আব্বাস নতুন শাসনকর্তার ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

১৩. আলী আব্বাসকে আশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিটি কেমন ছিলেন?
উত্তর:
আলী আব্বাসকে আশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিটি দয়ালু ও উদার প্রকৃতির ছিলেন।

১৪. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে কোন গুণের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে কৃতজ্ঞতা গুণের কথা বলা হয়েছে।

১৫. খলিফা মামুন আলী আব্বাসের প্রতি কেমন আচরণ করেছিলেন?
উত্তর:
খলিফা মামুন আলী আব্বাসের প্রতি ক্ষমাশীল আচরণ করেছিলেন।

১৬. আলী আব্বাস কেন বিপদে পড়েছিলেন?
উত্তর:
আলী আব্বাস রাজনৈতিক কারণে বিপদে পড়েছিলেন।

১৭. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে কে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তর:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে খলিফা মামুন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

১৮. আলী আব্বাস কার কাছে কৃতজ্ঞ ছিলেন?
উত্তর:
আলী আব্বাস আশ্রয়দাতা ব্যক্তির কাছে কৃতজ্ঞ ছিলেন।

১৯. গল্পে আলী আব্বাসের জীবনের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
উত্তর:
গল্পে আলী আব্বাসের জীবনের ‘কৃতজ্ঞতা ও দয়া’ প্রবণার দিকটি ফুটে উঠেছে।

২০. খলিফা মামুন কেন আলী আব্বাসকে ক্ষমা করেছিলেন?
উত্তর:
আলী আব্বাসের দয়াশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতা দেখে খলিফা মামুন আলী আব্বাসকে ক্ষমা করেছিলেন।

প্রত্যুপকার গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

১. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে ‘প্রত্যুপকার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে ‘প্রত্যুপকার’ বলতে বোঝানো হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর কাছ থেকে উপকার পেলে সেই উপকারের প্রতিদান দেওয়া। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বাস করতে হলে একে অন্যের সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। তাই সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রত্যুপকার করা জরুরি।

২. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে বন্দির প্রতি খলিফার আচরণে কী প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে বন্দির প্রতি খলিফার আচরণে তাঁর মহানুভবতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রকাশ পেয়েছে। বন্দিকে হত্যা করার আদেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তার উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মহানুভবতা দেখে তিনি বন্দির প্রাণদণ্ড মওকুফ করেন।

৩. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস কেন বন্দিকে মুক্ত করে দেন?
উত্তর:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস বন্দিকে মুক্ত করে দেন, কারণ বন্দি বিপদের সময় তাকে সাহায্য করেছিল। বন্দি তাকে খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে তার জীবন বাঁচিয়েছিল। তাই উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আলী ইবনে আব্বাস তাকে মুক্ত করে দেন।

৪. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে বন্দি কীভাবে আলী ইবনে আব্বাসের উপকার করেছিল?
উত্তর:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে বন্দি আলী ইবনে আব্বাসকে খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে তার জীবন বাঁচিয়েছিল। বন্দি তাকে মরুভূমির বিপদ থেকে রক্ষা করেছিল। তাই বন্দির এই উপকার আলী ইবনে আব্বাসের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৫. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে খলিফার চরিত্রটি কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তর:
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে খলিফার চরিত্রটি একজন মহানুভব ও ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে ফুটে উঠেছে। তিনি বন্দির উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মহানুভবতা দেখে তার প্রাণদণ্ড মওকুফ করেন। এর মাধ্যমে খলিফার ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতার প্রকাশ ঘটেছে।

প্রত্যুপকার গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন—১: চুরির অভিযোগে কিছুলোক জনৈক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করলো। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি চৌকিদার আমজাদকে ডেকে নির্দেশ দিলেন বন্দিকে তার বাড়িতে রাখতে। ঘটনাক্রমে তিনি জানতে পারলেন বন্দি ব্যক্তি আর কেউ নয়, সে দশ বছর আগে আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল, নিজ গৃহে নিয়ে গিয়ে আহত সন্তানের সেবা করেছিল। কিন্তু আমজাদ নিজের ক্ষতি হবে ভেবে না চেনার ভান করে চুপ করে রইল।

ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ কী?
খ. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা প্রত্যুপকার গল্পের কোন ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়।’ বিশ্লেষণ কর।

১ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ হলো কারও উপকারের প্রতিদানে কৃতজ্ঞচিত্তে সেই ব্যক্তির প্রতি উপকার করা।

খ. খলিফা মামুন আলী ইবনে আব্বাসের বিবরণ শুনে এবং বন্দির দয়া, ন্যায়পরায়ণতা ও সদাচরণের কথা জেনে এক গভীর চিন্তায় মগ্ন হন। তিনি উপলব্ধি করেন, বন্দির মতো মহান ব্যক্তির ওপর মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁর প্রাণদ- আদেশ করা একটি ভুল হতে চলেছিল। নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি কিছুক্ষণ মৌন ছিলেন এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে বর্ণিত সেই ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে আলী ইবনে আব্বাস একসময় ডেমাস্কাসের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির আশ্রয় ও সাহায্য লাভ করেছিলেন।

সেই ব্যক্তি এক মাস ধরে তাঁকে নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন, নিরাপত্তা প্রদান করেন এবং অর্থসহ যাবতীয় প্রয়োজন মিটিয়ে তাঁর নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করেন। পরে, ভাগ্যের ফেরে সেই আশ্রয়দাতা ব্যক্তিই বন্দি হয়ে খলিফার রোষানলে পড়ে আলী ইবনে আব্বাসের জিম্মায় আসেন।

উদ্দীপকের গল্পে বন্দি ব্যক্তি একসময় আমজাদের সন্তানকে দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়ে সেবা করেছিলেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমজাদ নিজের স্বার্থ ও ক্ষতির আশঙ্কায় সেই ঘটনা এড়িয়ে যান। উভয় ঘটনায় বন্দি ব্যক্তি আগে জীবন রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকার করেছেন। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আশ্রয়দাতা প্রাণরক্ষা করেন এবং উদ্দীপকে বন্দি ব্যক্তি দুর্ঘটনায় আহত শিশুর জীবন বাঁচান।

এই দুটি ঘটনার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতার মূল্য ও মানবিকতার বৈপরীত্য ফুটে ওঠে। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে কৃতজ্ঞতা ও আত্মত্যাগের উজ্জ্বল উদাহরণ দেওয়া হলেও, উদ্দীপকের ঘটনায় কৃতজ্ঞতার অভাব ও স্বার্থপরতার প্রতিফলন ঘটেছে।

ঘ. ‘আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়।’ মন্তব্যটি যথার্ত। আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়েই বন্দি কর্তৃক অতীতে উপকৃত হয়েছেন, তবে তাঁদের প্রতিক্রিয়া ও মানসিকতার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসের সেই আশ্রয়দাতা দ্বারা প্রাণরক্ষা পেয়েছিলেন। তিনি সেই সাহায্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞ ছিলেন এবং যখন তিনি জানতে পারেন যে তাঁর সেই আশ্রয়দাতা খলিফার রোষানলে বন্দি হয়েছেন, তখন নিজের জীবন ও অবস্থান বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও তাঁকে মুক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এটি তাঁর কৃতজ্ঞতা ও মানবিকতার পরিচায়ক।

অপরদিকে, আমজাদ জানতেন যে বন্দি ব্যক্তি তাঁর সন্তানের জীবন রক্ষা করেছিলেন, যা অত্যন্ত বড় উপকার। কিন্তু তিনি স্বার্থপর ও সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিয়ে সেই উপকারের কথা এড়িয়ে যান। তিনি নিজের সম্ভাব্য ক্ষতির ভয়েই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হন।

আলী ইবনে আব্বাস নিজের প্রাণ ও খলিফার রোষের ভয় উপেক্ষা করে বন্দির প্রাণ রক্ষার জন্য খলিফার কাছে সুপারিশ করেন এবং তাঁর মুক্তির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। এটি তাঁর আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার উদাহরণ।

বিপরীতে, আমজাদ নিজেকে বিপদমুক্ত রাখার জন্য বন্দির উপকারের কথা চেপে যান এবং সাহায্য করতে কোনো উদ্যোগ নেন না। এটি তাঁর আত্মকেন্দ্রিকতা ও সাহসের অভাবকে তুলে ধরে।

যদিও আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস একই পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন, তাঁদের আচরণ তাঁদের মানসিকতা ও নৈতিকতার পার্থক্য স্পষ্ট করে। আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞতার উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেন, যেখানে আমজাদ কৃতজ্ঞতার অভাব ও স্বার্থপরতার পরিচয় দেন। এই বৈপরীত্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত কৃতজ্ঞতা কেবল অনুভূতির বিষয় নয়, বরং তা কার্যকর আচরণ ও দায়িত্ববোধে প্রকাশ পায়।

error: Content is protected !!