লখার একুশে প্রশ্ন ও উত্তর, সপ্তম শ্রেণির বাংলা

লখার একুশে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১। আবু বকর সিদ্দিক কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : আবু বকর সিদ্দিক ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

২। লখার পায়ে কিসের কাঁটা ফুটল?
উত্তর : লখার পায়ে বাবলার কাঁটা ফুটল।

৩। লখার গলা দিয়ে কী শব্দ বের হলো?
উত্তর : লখার গলা দিয়ে আঁ আঁ আঁ শব্দ বের হলো।

৪। পথে পথে কিসের ঢল নেমেছে?
উত্তর : পথে পথে মিছিলের ঢল নেমেছে।

৫। শান কখন পুড়ে গরম হয়?
উত্তর : শান দিনের বেলায় পুড়ে গরম হয়।

৬। ‘লখার একুশে’ গল্পটির রচয়িতা কে?
উত্তর : আবুবকর সিদ্দিক।

৭। আবুবকর সিদ্দিক দীর্ঘদিন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন?
উত্তর : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

৮। আবুবকর সিদ্দিক কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : বাগেরহাট জেলায়।

৯। ‘লখার একুশে’ গল্পের অদ্ভুত গাছটার ফুলগুলো কেমন?
উত্তর : রক্তের মতো টুকটুকে লাল।

১০। ‘লখার একুশে’ গল্পের সকালটা কী রকম ছিল?
উত্তর : বড় আশ্চর্য সুন্দর।

১১। ‘লখার একুশে’ গল্পে বর্ণিত পথে নেমে আসা মিছিলকারীদের ঠোঁটে কী ছিল?
উত্তর : প্রভাতফেরির গান।

১২। ‘লখার একুশে’ গল্পটি পাঠের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর : ভাষা আন্দোলনের চেতনায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা।

১৩। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটির রচয়িতা কে?
উত্তর : আবদুল গাফফার চৌধুরী।

১৪। ‘আমার ভাইয়ের ……. ভুলিতে পারি।’ গানটির সুরকার কে?
উত্তর : শহিদ আলতাফ মাহমুদ।

১৫। লখা রাতে কোথায় ঘুমায়?
উত্তর : লখা রাতে ফুটপাতে ঘুমায়।

১৬। শত শত মানুষ হাতে ফুল নিয়ে প্রভাতফেরির গান গেয়ে ধীর পায়ে কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
উত্তর : শহিদ মিনারের দিকে।

লখার একুশে অনুধাবন ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১। প্রভাতফেরি বলতে কী বোঝ?
উত্তর : প্রভাতফেরি হলো একুশে ফেব্রুয়ারির সকালবেলার বিশেষ অনুষ্ঠান। সাধারণত ভোরবেলায় দল বেঁধে পাড়ায় গান গেয়ে সবাইকে জাগিয়ে তোলার অনুষ্ঠানকে প্রভাতফেরি বলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এটি একটি বিশেষ অর্থ বহন করে। ১৯৫২ সালের ভাষার জন্য সংগ্রামের মিছিলে শহিদ হওয়া রফিক, সালাম, বরকত জব্বারসহ অনেকের স্মরণে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরি করা হয়।

২। ‘সেদিন সকাল ছিল বড় আশ্চর্য সুন্দর।’ – কোন দিনের সকালের কথা বলা হয়েছে? বর্ণনা কর।
উত্তর :
এখানে একুশে ফেব্রুয়ারির স্নিগ্ধ সকালের কথা বলা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফ্রেব্রুয়ারিতে ভাষার জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকেই শহিদ হন। সেই শহিদ ভাইয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একুশে ফেব্রুয়ারির সকালবেলায় শত শত মানুষ হাতে ফুল নিয়ে প্রভাতফেরির গান গাইতে গাইতে ধীর পায়ে শহিদ মিনারের দিকে এগিয়ে যায়। ‘লখার একুশে’ গল্পের লখাও যায় ফুল দিতে শহিদ মিনারে। সেদিন সকাল ছিল বড় আশ্চর্য সুন্দর।

৩। লখা ভোর রাতে মায়ের পাশ থেকে উঠে দাঁড়ালো কেন?
উত্তর :
ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত লখা ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর ফুল সংগ্রহের জন্য ভোররাতে মায়ের পাশ থেকে উঠে পড়ে।
একুশে ফেব্রুয়ারির ভোররাতে লখা মাকে ফাঁকি দিয়ে চুপিচুপি শীতের রাতে পেরিয়ে পড়ে। কাঁটার যন্ত্রণা উপেক্ষা করে লখা গাছের মগডাল থেকে লাল টুকটুকে ফুল পেড়ে শহীদ মিনারে যায় সবার সঙ্গে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে।

৪। লখার দিন কিভাবে কাটে?
উত্তর :
কিশোর লখার দিন কাটে গুলি খেলে ও কাগজ কুড়িয়ে। লখাকে যত্ন নেওয়ার কেউ নেই। বাবাকে সে দেখেনি, আর মা সারাদিন ভিক্ষা করে। তাই লখার দিন কাটে গুলি খেয়ে, ছেঁড়া কাগজ কুড়িয়ে, বন্ধুদের সাথে মারামারি করে আর খাবারের দোকানের এঁটোপাতা চেটে।

‘৫। আঁ আঁ বলে কেঁদে দেয় লখা।’-কেন?
উত্তর :
কাঁটার বিষের অসহ্য যন্ত্রণায় লখা আঁ আঁ বলে কাঁদে। একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে ফুল দেবে বলে লখা ভোররাতে মায়ের কাছ থেকে ফ্রেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে ফুল দেবে বলে লখা ভোররাতে মায়ের কাছ থেকে উঠে পড়ে। ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশা, মস্ত নিচু খাদ, অন্ধকার বনজঙ্গল, ফুলগাছের কাঁটা- সবকিছু উপেক্ষা করে লখা শিশিরে ভেজা তুলতুলে, তুলোমিঠের মতো রক্তলাল ফুলের গুচ্ছ পেড়ে আনে। পথিমধ্যে তার পায়ে খচ করে কাঁটা ফুটে যায়। কাঁটার বিষের অসহ্য যন্ত্রণায় তাই সে আঁ আঁ শব্দে কেঁদে দেয়।

৬। “এখন ওই উপরের এক থোকা ফুল তার পেড়ে আনা চাই।” – এই ফুল কার দরকার এবং কেন?
উত্তর :
ওই উপরের এক থোকা ফুল শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের জন্য লখার দরকার।
একুশের ভাষাশহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা অর্পণের জন্য লখা অনেক কষ্ট আর বাধা সহ্য করে ফুল তোলার জন্য গাছটার নিচে এসে দাঁড়ায়। গাছের মগডালে থাকা লাল টুকটুকে ফুলগুলোকে দেখে লখার নয়ন ভরে যায়। তাই এখন যেভাবেই হোক, সেই ফুলগুলো থেকে সে এক থোকা ফুল পেড়ে আনবেই।

৭। ‘বাইরে শব্দ হয় – আঁ আঁ আঁ আঁ – লাইনটিতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর :
বাঙালির গর্বের উচ্চারণ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ আঁ আঁ আঁ আঁ শব্দে লখার মুখে উচ্চারিত হয়েছে।
লখা উঁচু ডালে উঠে ফুল সংগ্রহ করে গর্বের সঙ্গে শহিদ মিনারে নিয়ে যায় শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। বোবা হলেও সে আঁ আঁ আঁ আঁ ধ্বনি উচ্চারণ করে। তাঁর ঐ ধ্বনির মধ্য দিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটিকে বোঝানো হয়েছে।

error: Content is protected !!