সুভা গল্পের প্রশ্ন উত্তর

সুভা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১. ‘বাখারি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর :
‘বাঁখারি’ শব্দের অর্থ কাঁধের দুদিকে দুপ্রান্তে ঝুলিয়ে বোঝা বহনের বাঁশের ফালি।

২. বাবা মায়ের কোন আয়োজন দেখে সুভার হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে উঠেছিল?
উত্তর :
বাবা-মায়ের বিদেশ যাত্রার আয়োজন দেখে সুভার হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে উঠেছিল।

৩. ‘অনিমেষ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর :
‘অনিমেষ’ শব্দের অর্থ – অপলক বা পলকহীন।

৪. ‘শুক্লাদ্বাদশী’ অর্থ কী?
উত্তর :
‘শুক্লাদ্বাদশী’ শব্দের অর্থ চাঁদের বারোতম দিন।

৫. ‘সুভা’ গল্পে কোন তিথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর :
‘সুভা’ গল্পে পূর্ণিমা তিথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

৬. ‘সুভা’ গল্পে সুভ্রার বাবার নাম কী?
উত্তর :
‘সুভা’ গল্পে সুভার বাবার নাম বাণীকণ্ঠ।

৭. গোঁসাইদের ছোটো ছেলেটির নাম কী?
উত্তর :
গোঁসাইদের ছোটো ছেলেটির নাম প্রতাপ।

৮. সুভা কখন নদীতীরে এসে বসত?
উত্তর :
কাজকর্মে অবসর পেলেই সুভা নদীতীরে এসে বসত।

৯. ‘সুভা’ গল্পে পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করছে কে?
উত্তর :
‘সুভা’ গল্পে পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করছে সুভা।

১০. প্রকৃতি সুভার কীসের অভাব পূরণ করে দেয়?
উত্তর:
প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।

১১. ‘সুভা’ গল্পে কাকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে?
উত্তর:
‘সুভা’ গল্পে গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে।

১২. প্রতাপের প্রধান শখ কী?
উত্তর:
প্রতাপের প্রধান শখ ছিপ ফেলে মাছ ধরা।

১৩. প্রতাপ সুভাকে কী বলে ডাকত?
উত্তর :
প্রতাপ সুভাকে ‘সু’ বলে ডাকত।

১৪. সুভা মনে মনে কী হতে চাইত?
উত্তর:
সুভা মনে মনে অলৌকিক শক্তির অধিকারী হতে চাইত।

১৫. সুভা অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করে কেন?
উত্তর :
নিজের প্রতি প্রতাপকে আকর্ষণ করার জন্য সুভা অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করে।

১৬. সুভা জলকুমারী হলে কী করত?
উত্তর :
সুভা জলকুমারী হলে জল থেকে সাপের মাথার মণি প্রতাপের জন্য ঘটে রেখে দিত।

সুভা অনুধাবনমুলক প্রশ্ন ও উত্তর

১. কালো চোখেকে কিছু তর্জমা করতে হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর :
মানুষের মনের ভাবের খেলা চোখের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশিত হয় বলেই কালো চোখকে কিছু তর্জমা করতে হয় না। কথা বলে আমরা যে ভাবের প্রকাশ করি, তা অনেকটাই শব্দের মাধ্যমে অনুবাদ বা তর্জমা করতে হয়। কিন্তু চোখের মাধ্যমে আমরা যে ভাবের জগৎ অনুভব করি, তা কোনো শব্দে অনুবাদ করতে হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই তা ভাব প্রকাশক হয়ে ওঠে। ফলে শব্দের মাধ্যমে ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়, তা আর থাকে না। তাই চোখকে কোনো কিছু অনুবাদ করতে হয় না।

২. অকর্মণ্য লোকেরা কীভাবে নিঃসম্পর্ক মানুষের প্রিয়পাত্র হয়?
উত্তর :
অকর্মণ্য লোকেরা নিঃস্বার্থভাবে নিঃসম্পর্ক মানুষদের নানা উপকারে আসে বলে তারা প্রায়ই মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে।
অকর্মণ্য লোকেরা কোনো কাজে আসে না বলে আত্মীয়রা তাদের উপর বিরক্ত থাকে। কিন্তু অনেক সময় নিঃসম্পর্ক মানুষের কাছে এই অকর্মণ্য লোকেরা প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে। কারণ, তারা কোনো কাজ না করায় সবসময় তাদের হাতে অনেক সময় থাকে। ফলে কাজেকর্মে, আমোদে-অবসরে যেখানে একটা লোক কম পড়ে সেখানেই তাদের হাতের কাছে পাওয়া যায়।

৩. ‘আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি।’-সুভার এমন মনোভাবের কারণ কী?
উত্তর :
বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সুভা প্রশ্নোক্ত মনোভাব পোষণ করত।
বাব-মায়ের ছোটো মেয়ে সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। নিজের এমন দুর্বলতায় সুভা নিজেকে অসহায় মনে করত। সে সাধারণের দৃষ্টিপথ হতে নিজেকে সর্বদা গোপন করে রাখত। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়াটাকে সে অভিশাপ মনে করত। তাকে সবাই ভুলে গেলেই সে যেন স্বস্তি পেত।

৪. সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল কেন? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর :
বিদেশযাত্রার উদ্যোগ শুরু হলে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। তাকে নিয়ে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। মেয়ের বিয়ে নিয়ে বাবা শঙ্কিত। একদিন সপরিবারে তারা কলকাতা যাওয়ার আয়োজন করে। বিদেশযাত্রার এ উদ্যোগ সুভার মনে অজানা আশঙ্কার সৃষ্টি করে। এ আশঙ্কা থেকেই তার হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গিয়েছিল।

error: Content is protected !!