প্রকৃতির অধিকার বলতে এমন একটি আইনি ও নৈতিক ধারণাকে বোঝায় যেখানে প্রকৃতিকে কেবল মানুষের ব্যবহারের বস্তু বা সম্পদ হিসেবে না দেখে তাকে নিজস্ব আইনি সত্তা বা ‘লিগ্যাল পারসন’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই দর্শনের মূলে রয়েছে এই বিশ্বাস যে, মানুষের যেমন বেঁচে থাকার বা বিকাশের অধিকার আছে, তেমনি নদী, পাহাড়, বনভূমি ও বাস্তুসংস্থানেরও অস্তিত্ব রক্ষা, বিকাশ এবং স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখার অবিচ্ছেদ্য অধিকার রয়েছে। প্রথাগত আইনে প্রকৃতিকে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হলেও, প্রকৃতির অধিকারের আওতায় পরিবেশের কোনো ক্ষতি হলে প্রকৃতির পক্ষ থেকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া সম্ভব। মূলত জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং ধরিত্রীকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত রাখতে এটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ, যা মানুষকে প্রকৃতির অধিপতি নয় বরং অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে শেখায়।