মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা ‘ধর্মমঙ্গল’ কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি হলেন ঘনরাম চক্রবর্তী।
যদিও এই ধারার আদি কবি হিসেবে ময়ূর ভট্টকে গণ্য করা হয়, তবুও কাব্যগুণ, পাণ্ডিত্য এবং বর্ণনাকৌশলের বিচারে ঘনরাম চক্রবর্তীকেই এই ধারার শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে স্বীকার করা হয়।
ঘনরাম চক্রবর্তী ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ:
- শ্রীধর্মমঙ্গল: তাঁর রচিত মহাকাব্যধর্মী গ্রন্থটির নাম ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’ (বা কেবল ‘ধর্মমঙ্গল’)। এটি ১৭১১ সালে সমাপ্ত হয়েছিল।
- কাব্যগুণ ও পাণ্ডিত্য: তিনি উচ্চশিক্ষিত ছিলেন এবং সংস্কৃত অলঙ্কারশাস্ত্রে তাঁর বিশেষ দখল ছিল। তাঁর লেখনীতে মার্জিত শব্দচয়ন এবং ছন্দের নিপুণ ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
- চরিত্র চিত্রণ: লাউসেন, রঞ্জাবতী এবং বিশেষ করে কালু ডোম ও তাঁর স্ত্রী লখাইয়ের মতো চরিত্রগুলোকে তিনি অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- সামাজিক চিত্র: তাঁর কাব্যে অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার সমাজজীবন, রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের নিখুঁত প্রতিফলন ঘটেছে।