গুণিতক হলো নামতা পড়ার ফল, আর গুণনীয়ক হলো একটি সংখ্যাকে যা যা দিয়ে ভাগ করা যায়।
বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য নিচে এদের মূল পার্থক্যগুলো দেওয়া হলো:
১. মৌলিক পার্থক্য
- গুণিতক (Multiple): কোনো সংখ্যাকে যেকোনো পূর্ণসংখ্যা দিয়ে গুণ করলে যে গুণফল পাওয়া যায়, তাকে ওই সংখ্যার গুণিতক বলে।
- যেমন: ৫-এর গুণিতক হলো ৫, ১০, ১৫, ২০… (৫-এর নামতা)।
- গুণনীয়ক (Factor): কোনো সংখ্যাকে যে যে সংখ্যা দিয়ে নিঃশেষে ভাগ করা যায় (অর্থাৎ ভাগশেষ ০ হয়), তাদের ওই সংখ্যার গুণনীয়ক বা উৎপাদক বলে।
- যেমন: ১০-এর গুণনীয়ক হলো ১, ২, ৫ এবং ১০। কারণ এই চারটি সংখ্যা দিয়ে ১০-কে ভাগ করা যায়।
২. গুণিতক বনাম গুণনীয়ক
| বৈশিষ্ট্য | গুণিতক (Multiple) | গুণনীয়ক (Factor) |
| আকার | সংখ্যাটির সমান বা তার চেয়ে বড় হয়। | সংখ্যাটির সমান বা তার চেয়ে ছোট হয়। |
| সংখ্যা | গুণিতকের সংখ্যা অসীম (শেষ নেই)। | গুণনীয়কের সংখ্যা সসীম (নির্দিষ্ট)। |
| নির্ণয় পদ্ধতি | সংখ্যাটিকে ১, ২, ৩… দিয়ে গুণ করে পাওয়া যায়। | সংখ্যাটিকে কী কী দিয়ে ভাগ করা যায় তা দেখে পাওয়া যায়। |
| উদাহরণ (১২-এর) | ১২, ২৪, ৩৬, ৪৮, ৬০… | ১, ২, ৩, ৪, ৬, ১২ |
৩. মনে রাখার সহজ কৌশল
- গুণিতক = বড় হবে: আপনি যখন কোনো সংখ্যার গুণিতক বের করবেন, সংখ্যাটি বাড়তে থাকবে (যেমন বেলুন ফুলিয়ে বড় করা)।
- গুণনীয়ক = ছোট হবে: আপনি যখন গুণনীয়ক বের করবেন, সংখ্যাটিকে টুকরো করে ছোট করবেন (যেমন একটা পাউরুটি কেটে স্লাইস করা)।
একটি মজার তথ্য: > ১ সব সংখ্যারই গুণনীয়ক। আর যেকোনো সংখ্যা নিজেই নিজের একটি গুণিতক এবং গুণনীয়ক।