সনেট কাকে বলে? সনেট শব্দের অর্থ কি? সনেটের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি? 2025

সনেট কাকে বলে?

সনেট কাকে বলে? বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। বাংলায় উল্লেখযোগ্য সনেট রচয়িতা –মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, প্রমথ চৌধুরী, মোহিতলাল মজুমদার, ফররুখ আহমদ, কামিনী রায়। সনেট ১৪, ১৮,২২,২৬,৩০ মাত্রার হয়।
সনেটে দুই স্তবকে ১৪ টি চরণ থাকে।সাধারণত দুই স্তবকে যথাক্রমে ৮ টি ও ৬ টি চরণ থাকে।

(চরণ বিন্যাসে ব্যতিক্রম থাকতে পারে)

  • প্রথম ৮ টি চরণের স্তবককে অষ্টক ও ৬ টি চরণের স্তবককে ষষ্টক বলে।
  • নির্দিষ্ট নিয়মে অন্ত্যমিল থাকে।
  • সনেটের ভাষা মার্জিত এবং ভাব গভীর ও গম্ভীর হতে হয়।
  • সনেট মূলত ৩ প্রকার: 
    • পেত্রার্কীয় সনেট, 
    • শেক্সপীয়রীয় সনেট, 
    • ফরাসি সনেট।

সনেট শব্দের অর্থ কি?

সনেট (Sonnet) ইংরেজি শব্দটি ইতালীয় সনেটো (sonetto) থেকে এসেছে, যার অর্থ সামান্য শব্দ বা গান (Little sound or song)।

সনেট কত প্রকার বা সনেটের প্রকারভেদ

সনেট মূলত দু’প্রকারের হয়। 

  • পেত্রার্কীয় সনেট ও 
  • শেক্সপীয়রীয় সনেট

তবে এডমাণ্ড স্পেনসার শেক্সপীয়রীয় সনেটে নতুনত্ব এনেছেন। তাঁর প্রবর্তিত সনেটের নাম স্পেনসারের সনেট। এছাড়াও ফ্রান্সে নতুন রীতির একটি সনেট গড়ে উঠেছে, সেটি হলো ফরাসী সনেট।

  • পেত্রার্কীয় সনেট: অষ্টকের মিল বিন্যাস – কখ খক, কথ খক। ষটকের মিলবিন্যাস – গঘঙ, গঘঙ / গঘগ, ঘগঘ / গঘঙ, ঘগঙ।
  • শেক্সপীয়রীয় সনেট: তিনটি চতুষ্ক ও একটি সমিল দ্বিপদিকা এই সনেটে বিদ্যমান। মিলবিন্যাস – কখ কখ, গঘ গঘ, ঙচ ঙচ, ছছ।
  • ফরাসী সনেট: অষ্টকের মিলবিন্যাস – কখ কখ, কখ কখ। ষটকের মিলবিন্যাস – গঘ, কগ কঘ।

সনেট কবিতার প্রবর্তক কে?

সনেটের প্রবর্তক ইটালীয় কবি পেত্রার্ক।

সনেটের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি?

  • সনেট অক্ষরবৃত্ত রীতিতে রচিত পয়ার ও মহাপয়ারের উপর স্থাপিত।
  • সনেটে থাকে ১৪ টি চরণ।
  • পয়ারের উপর প্রতিষ্ঠিত সনেটে প্রতিটি চরণে থাকে ১৪ টি মাত্রা যার প্রবর্তক হলেন মধুসুদন দত্ত। (বঙ্গভাষা)
  • মহাপয়ারের উপর প্রতিষ্ঠিত সনেটে প্রতিটি চরণে ১৮ টি মাত্রা যার প্রবর্তক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। (রাত্রি)
  • সনেটের প্রথম ৮ চরণকে বলে ‘অষ্টক’, শেষের ৬ চরণকে বলে ‘ষটক’। 
  • অষ্টকে একটা ভাব ঘণীভূত হয়ে প্রকাশ পায় আর ঘটকে তা ব্যাখ্যা থাকে।
  • সনেটে অষ্টক মূল, ষটক উপসংহার।
  • মিলবিন্যাসের দিক দিয়ে সনেটকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়-
  • সনেটে ভাব প্রকাশের মধ্য দিয়েই কবি হৃদয়ের গভীর আনন্দ বা বেদনা বা বিশেষ অনুভূতি ব্যক্ত হয়।
  • সনেট গাঢ় বদ্ধ রচনা, তার দেহ সংহত এবং মতায়তন।
  • সনেটে একটি মাত্র ভাবের দ্যোতনা লক্ষ করা যায়।
  • সনেট রচয়িতার কঠিন পরিমিতি বোধ কাম্য।
  • সনেটের ভাষা হবে স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল যাতে কোনো দুর্বোধ্যতা থাকবেনা।
  • সনেট অক্ষরবৃত্তে রচিত বলে এর যাবতীয় লক্ষণ সনেটে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।

error: Content is protected !!