Home ভিডিও ক্লাস রসায়ন পদার্থবিজ্ঞান জীববিজ্ঞান গণিত English প্রাক-প্রাথমিক

নতুন পোষ্ট

মোট জাতীয় উৎপাদন কাকে বলে? মোট জাতীয় উৎপাদন হিসাবে যেসকল সতর্কতা অবলম্বন করা হয়

মোট জাতীয় উৎপাদন কাকে বলে? দেশের সকল মানুষ দেশের ভিতরে ও বাইরে একটা অর্থবছরে যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা সামগ্রী উৎপাদন করে তার মোট আর্থিক মূল্যকে মোট জাতীয় উৎপাদন বলে। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক আর্থিক বছরে) যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্ম উৎপাদিত হয় তার বাজার মূল্যের সমষ্টি বলা হলো জাতীয় উৎপাদন (Gross National Product)। মোট জাতীয় উৎপাদন হিসাবে যেসকল সতর্কতা অবলম্বন করা হয় ১) GNP একটি নির্দিষ্ট সময়ে গণনা করতে হবে। ২) শুধুমাত্র চলতি বছরের উৎপাদিত পণ্য ও সেবাকর্মই GNP এর অন্তর্ভূক্ত হবে। ৩) চূড়ান্তভাবে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবাকর্মের আর্থিক মূল্য GNP তে অন্তর্ভূক্ত হবে। ৪) দ্রব্য ও সেবাকর্ম অবশ্যই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উৎপাদিত হতে হবে। ৫) বে-আইনি কার্যকলাপ থেকে উৎপাদিত পণ্য ও সেবা GNP-তে ধরা যাবে না। ৬) উৎপাদিত পণ্য ও সেবার অবশ্যই বাজার মূল্য থাকতে হবে। ৭) একটা দেশের সকল মানুষের উৎপাদন আয় এক্ষেত্রে হিসাবভুক্ত করা হয়। ৮) দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত বিদেশিদের উৎপাদন আয় এক্ষেত্রে হিসাবে ধরা হয় না। আরো পড়ুনঃ উৎপাদনের ধারণা | উৎপাদনের গুরুত্ব | উৎপাদনের আওতা উৎপাদনশীলতা | উৎ

বিশ্ব উষ্ণায়ন কাকে বলে? বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব | বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়

বিশ্ব উষ্ণায়ন 

বিশ্ব উষ্ণায়ন বা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।এটিকে গ্রিন হাউসের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাসকে দায়ী করা হয়। এগুলো হলো কার্বনডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ

১৮০০ সালের প্রথম দিকে শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই কয়লা, তেল, গ্যাসোলিনের মত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। ফলে বায়ুমণ্ডলের গ্রিন হাউজ গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বনডাই-অক্সাইড বৃদ্ধি, বনায়ন এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়। কল-কারখানা ও যানবাহনের নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া, নগরায়ন, বাড়ি ঘরের অবকাঠামোতে বৈশিষ্ট্য, অতিরিক্ত খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভরতার কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মিও পৃথিবী পৃষ্ঠে বসবাসরত জীবজগতের জীবনধারণে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে।

বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব

বিশ্ব উষ্ণায়নের উল্লেখযোগ্য প্রভাবসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

  • জলবায়ু পরিবর্তনঃ বিশ্ব উষ্ণায়নের মুখ্য প্রভাব হলো জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। যেমন - অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি। এছাড়া অধিক গরম, খরা, এসিড বৃষ্টি প্রভৃতি দেখা দিচ্ছে।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টিঃ বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের হার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততার ন্যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের হার সবচেয়ে বেশি।
  • মেরু অঞ্চলের বরফ গলনঃ বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে।
  • সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তনঃ বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিশন, ভিয়েতনাম, ফিজি, কিরিবাতি, টুভ্যালু প্রভৃতি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এছাড়া কৃষি জমি লবণাক্ত হয়ে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাবে।
  • জীববৈচিত্র্য ধ্বংসঃ বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীতে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণিকূল বিলুপ্ত হবে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের অনুকূল পরিবেশে সরাসরি আঘাত হানার মধ্য দিয়ে ধ্বংস সাধন করছে।
  • রোগব্যাধিঃ উষ্ণায়নের ফলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ যেমন - ম্যালেরিয়া, এজমা, এলার্জি প্রভৃতি রোগের বিস্তার ঘটেছে। 
এছাড়া পৃথিবীর ভূমিক্ষয়, সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, মাটির উর্বরতা হ্রাস, প্রাকৃতিক জলাশয়ের উৎস বিনষ্ট হওয়া, খাদ্যে অনিরাপত্তা, বাস্তুসংস্থানের চক্র বিনষ্ট হওয়া, ওজোন স্তরের কার্যক্রম নষ্ট হওয়া, সমুদ্রে অক্সিজেন দ্রবীভূত হওয়ার পরিমাণ করে যাওয়া ইত্যাদি নানা ধরনের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে পৃথিবীবাসী।

বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো -
  • পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
  • যানবাহন ও কলকারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
  • যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
  • বিকল্প জ্বালানি যেমন - কয়লা, খনিজ তেল, পারমাণবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা।
  • প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
  • পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
  • জনসচেনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

আরো পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সর্বাধিক পঠিত পোষ্টসমূহ

ট্রাফিক কাকে বলে? ট্রাফিক সাইন কত প্রকার ও কি কি?

স্থানীয় মান কাকে বলে?

গুণনীয়ক কাকে বলে?

প্রকৃত মান কাকে বলে?

সমকোণ কাকে বলে?

উদ্ভিদ কোষ ও প্রাণী কোষের মধ্যে পার্থক্য

মোট জাতীয় উৎপাদন কাকে বলে? মোট জাতীয় উৎপাদন হিসাবে যেসকল সতর্কতা অবলম্বন করা হয়

গুণিতক কাকে বলে?

সামাজিক পরিবর্তন কাকে বলে? সামাজিক পরিবর্তনের কারণসমূহ

পেডিমেন্ট কি? বা পেডিমেন্ট কাকে বলে?