সহজ কথায়, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনকেই গতি বলা হয়। আমাদের চারপাশে যা কিছু স্থির নয়, যেমন—চলন্ত গাড়ি, উড়ন্ত পাখি কিংবা বাতাসের প্রবাহ, সবই গতির উদাহরণ। পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায়, যদি কোনো বস্তু তার পারিপার্শ্বিকের তুলনায় সময়ের সাথে স্থান পরিবর্তন করে, তবে সেই অবস্থাকে গতিশীল অবস্থা বলা হয়। গতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি আপেক্ষিক; অর্থাৎ, একটি বস্তু এক জনের কাছে গতিশীল মনে হলেও অন্য কারো কাছে স্থির মনে হতে পারে (যেমন—চলন্ত ট্রেনের ভেতরে বসে থাকা যাত্রীরা একে অপরের সাপেক্ষে স্থির, কিন্তু স্টেশনে দাঁড়ানো ব্যক্তির সাপেক্ষে গতিশীল)।
গতি মূলত বিভিন্ন ধরনের হতে পারে এবং এটি পরিমাপের জন্য দূরত্ব ও সময়ের প্রয়োজন হয়। যখন কোনো বস্তু নির্দিষ্ট দিকে একটি নির্দিষ্ট বেগে চলে, তখন তাকে তার গতির প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন—সরল রৈখিক গতি, ঘূর্ণন গতি বা পর্যায়বৃত্ত গতি। কোনো বস্তুর গতি বর্ণনা করতে দ্রুতি (কত দ্রুত চলছে) এবং বেগ (কোন দিকে কত দ্রুত চলছে) এই দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। গতির মূল কারণ হলো বস্তুর ওপর প্রযুক্ত বল, যা বস্তুর স্থির অবস্থাকে পরিবর্তন করে তাকে সচল করে তোলে।